বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জামিন-পরবর্তী অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া জানালেন সেই সুরভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

জামিন-পরবর্তী অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া জানালেন সেই সুরভী

জামিন পাওয়ার পর গ্রেফতার, কারাবাস, রিমান্ড ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দিয়েছেন আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত তিন দফা দাবির পরবর্তী কর্মসূচি ও কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সুরভী এসব অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া জানান।


বিজ্ঞাপন


তাহরিমা জান্নাত বলেন, ‘যেদিন আমাকে গ্রেফতার করা হয়, সেদিনই হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। টানা চার দিন হাসপাতালে ভর্তি এবং রিলিজের পর খুব দুর্বল অবস্থায় বাসায় এসে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাতের বেলায় হঠাৎ উঠে দেখি, রুমভর্তি পুলিশ ও আর্মি সদস্য, তার মা কান্নাকাটি করছেন।’ 

তাহরিমা বলেন, ‘পুলিশের কাছে কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, আমার বিরুদ্ধে সার্চ ওয়ারেন্ট আছে। এরপর ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। লবণের প্যাকেট খুলে, বিছানার চাদর তুলে ৫০ কোটি টাকা খোঁজা হয়। পরে রাত প্রায় ২টার দিকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাকে টঙ্গী পূর্ব থানায় নেওয়া হয়, যদিও মামলা কালিয়াকৈর থানার। থানায় নেওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করা হয়, এমনকি পা ধরে বলি যেন জেলের ভেতরে না রাখা হয়।’

কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জুলাই আন্দোলনের এই কর্মী বলেন, ‘আমি ১১ দিন কারাগারে ছিলাম। এই সময়টায় যে পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পরিবারের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সাক্ষাৎ বন্ধ ছিল। বাইরে কী হচ্ছে, আমার মা কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে দিন কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানতে পারিনি। আমার বাবা চার মাসের তাবলিগ জামাতে থাকায় পুরো বিষয়টি একাই সামলাতে হয়েছে আমার মাকে। আমার মা এমন একজন মানুষ, যিনি বাজার পর্যন্ত ঠিকমতো চেনেন না। সেই মানুষটিকেই সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে আমাকে কীভাবে মুক্ত করা যায়, সেই চেষ্টা করতে হয়েছে।’

সুরভী বলেন, ‘তিন দিন পর গাজীপুরের আহ্বায়ক অপু ভাইসহ রাশেদ ভাই, রুদ্র ভাই, মহিন ভাই ও মসন ভাই আমার পাশে দাঁড়ান। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তারা পাশে না দাঁড়ালে হয়তো আমার জামিন এত সহজে সম্ভব হতো না। আমাকে দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। প্রথমবার মহিলা গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে নেওয়ার পর আমার জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ড দেওয়া হয়। পরে আবার আইও এসআই ফারুক দ্বিতীয় দফা রিমান্ড চান। আমার পরীক্ষার তারিখ সামনে থাকা সত্ত্বেও সেই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট যখন আইওকে জিজ্ঞেস করেন এজাহার ছাড়া আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ আছে কি না, তখন আইও নিজেই স্বীকার করেন যে কোনো প্রমাণ নেই। এরপরও আমার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে আমার আইনজীবীরা আমার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করলে শেষ পর্যন্ত আমি জামিন পাই।’


বিজ্ঞাপন


নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তাহরিমা জান্নাত বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। কখনো আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি কিংবা গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি সবসময় অরাজনৈতিক অবস্থান থেকেই আন্দোলন করেছি। দেশের জন্য কাজ করার পরও আমাকে ১১ দিন অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। একদিন কোনোভাবে এক কর্মকর্তার পায়ে ধরে অনুরোধ করে আমি আমার মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই। সেদিন আমি আমার মাকে বলেছিলাম, এটা দুনিয়ার জাহান্নাম।’

এক সাংবাদিক প্রসঙ্গে সুরভী বলেন, ‘দুর্জয় নামের একজন প্রথমে আমার কাছে আপসনামা নিয়ে এসেছিলেন। পরে যখন বুঝতে পারেন যে তার বিরুদ্ধে আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তখন আপস করতে চান। কিন্তু আমি কোনো আপসনামায় সই করিনি। এই বিষয়টি নিয়েই নানা প্রশ্ন উঠেছে। আমার শরীরের অবস্থা এখনও খুব খারাপ। ১১ দিনের জেলজীবনের পুরো অভিজ্ঞতা বলতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগবে।’ 

এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর