ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী বুধবার (৭ জানুয়ারি) আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট চলতি মাসের ৭ জানুয়ারি আদালতে দাখিল করা হবে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘সরকার মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে- মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হচ্ছেন- মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন ডিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং আব্দুল হান্নান।
পুলিশ জানিয়েছে, হাদির হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখ পালিয়ে গেছে। তদন্তকালে পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, জাল নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে, যদিও তদন্তের স্বার্থে সবার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পল্টন থানার বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাকে শাহবাগে জাতীয় কবির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
এএইচ

