আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন ৪২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে একটি আপিল আবেদন এসেছে বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নের বিরুদ্ধে, আর ৪১টি আপিল আবেদন পড়েছে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) আপিল দায়েরের সময় শেষে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, রংপুর অঞ্চলে তিনটি, রাজশাহী অঞ্চলে পাঁচটি, খুলনা অঞ্চলে তিনটি, বরিশাল অঞ্চলে একটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে একটি, ঢাকা অঞ্চলে ১৫টি, ফরিদপুর অঞ্চলে সাতটি, কুমিল্লা অঞ্চলে পাঁচটি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুটি আবেদন জমা পড়েছে। এদিকে কুমিল্লা অঞ্চলে একজন বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের একে একরামুজ্জামানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছেন বিএনপির প্রার্থী এমএ হান্নান। একরামুজ্জামান নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন। তবে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয় পান।
আবেদনকারীদের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাও এসেছিলেন। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনে আম-জনতার দলের প্রার্থী হিরো আলম আবেদন জানাতে এলে তাকে আদালতে যেতে বলেছে ইসি। হিরো আলম পর্যাপ্ত ‘সময় না পাওয়ায়’ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।
যে সকল আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১৬ লালমনিরহাট-১ (১টি), ১৯ রংপুর-১ (১টি), ২২ রংপুর-৪ (১টি), ৩৮ বগুড়া-৩ (১টি), ৪৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (১টি), ৫৬ রাজশাহী-৫ (১টি), ৫৮ নাটোর-১ (১টি), ৮৯ যশোর-৫ (১টি), ৯৩ নড়াইল-১ (১টি), ৯৫ বাগেরহাট-১ (১টি), ১০৪ খুলনা-৬ (১টি), ১১৩ পটুয়াখালী-৩ (১টি), ১৩০ টাঙ্গাইল-১ (১টি), ১৬২ কিশোরগঞ্জ-১ (১টি), ১৬৫ কিশোরগঞ্জ-৪ (১টি), ১৭৩ মুন্সিগঞ্জ-৩ (১টি), ১৭৬ ঢাকা-৩ (২টি), ১৮২ ঢাকা-৯ (১টি), ১৯১ ঢাকা-১৮ (১টি), ১৯৪ গাজীপুর-১ (১টি), ১৯৫ গাজীপুর-২ (১টি), ১৯৬ গাজীপুর-৩ (১টি), ১৯৮ গাজীপুর-৫ (২টি), ১৯৯ নরসিংদী-১ (১টি), ২০২ নরসিংদী-৪ (১টি), ২০৭ নারায়ণগঞ্জ-৪ (১টি), ২১৪ ফরিদপুর-৪ (১টি), ২১৬ গোপালগঞ্জ-২ (১টি), ২১৯ মাদারীপুর-২ (১টি), ২২১ শরীয়তপুর-১ (৩টি), ২২৩ শরীয়তপুর-৩ (১টি), ২৪৯ কুমিল্লা-১ (১টি), ২৫৭ কুমিল্লা-৯ (১টি), ২৬১ চাঁদপুর-২ (১টি), ২৬৫ ফেনী-১ (১টি), ২৮৮ চট্টগ্রাম-১১ (১টি) এবং ২৯৫ কক্সবাজার-২ (১টি)। ২৪৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ১টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের কার্যক্রম চলবে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬টি। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ২ হাজার ৫৬৮টি। বাছাইয়ে বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৮৪২টি। আর বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র।
সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে, ১৩৩টি। সবচেয়ে কম বাতিল হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে, ৩১টি।
তফসিল অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো বাছাই করেছেন। ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
এমএইচএইচ/এএইচ

