আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা বৈধ-অবৈধ ঘোষণায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। যা চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
রোববার (৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইসি কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে সারাদেশে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ হয়েছে ৩ হাজার ৪০৬টি, দাখিল ২ হাজার ৫৬৮টি এর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নের সংখ্যা ১ হাজার ৮৪২টি আর বাতিল করা ৭২৩টি মনোনয়নপত্র। বৈধ-অবৈধ প্রার্থী মনোনয়নে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) অফিস সময়ের মধ্যে এসব আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসির জারি করা সাতটি নির্দেশনা মেনে আপিল করতে হবে।
নির্দেশনাগুলো হলো:
১। আপিল আবেদন কমিশন-কে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
২। আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
৩। আপিল আবেদনের ১টি মূলকপিসহ সর্বমোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে।
৪। আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপীল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
৫। আপিল আবেদন ০৫ জানুয়ারি তারিখ হইতে ০৯ জানুয়ারির তারিখের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
৬। আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরম-এ আবেদন দাখিল করতে হবে। ওই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ হতে সংগ্রহ করা যাবে।
৭। আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল দায়েরের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থাকবে ১০টি বুথ।
বুথ নং-১ (খুলনা অঞ্চল):
মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা।
বুথ-২ (রাজশাহী অঞ্চল):
জেলা সমূহ হচ্ছে- জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
বুথ-৩ (রংপুর অঞ্চল):
জেলা সমূহ হচ্ছে- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
বুথ-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল)
জেলা সমূহ হচ্ছে- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান।
বুথ-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল)
জেলা সমূহ হচ্ছে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর।
বুথ-৬ (সিলেট অঞ্চল)
জেলা সমূহ হচ্ছে- সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।
বুথ-৭ (ঢাকা অঞ্চল):
জেলা সমূহ: টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
বুথ-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল):
জেলা সমূহ হচ্ছে- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
বুথ-৯ (বরিশাল অঞ্চল):
জেলা সমূহ হচ্ছে- বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর।
বুথ-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল):
জেলা সমূহ হচ্ছে- রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
এমএইচএইচ/এএস

