সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

চার দাবিতে তাঁতবোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি তাঁতিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

চার দাবিতে তাঁতবোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি তাঁতিদের

দেশের ৩০ লাখ তাঁতি ও ৬০ লাখ তাঁতশ্রমিকের চার দফা দাবি আদায়ে রোববার (৪ জানুয়ারি)  তাঁতবোর্ড ঘেরাওসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁতিরা। দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি অব্যাহত রাখার দাবিতে সারাদেশের তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। 

তাদের চার দাবির মধ্যে রয়েছে- 
১. আওয়ামী দোসর খ্যাত কর্মকর্তা দ্বারা চলমান এস আর ও নং-২০০ তাং-২৯/০৫/২০২৪ বন্ধের অপতৎপরতা এবং পাঁয়তারা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২.বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের বিতর্কিত সদস্য এবং ডিজিএম কর্তৃক অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে তাঁতিদের আমদানি সুপারিশ বন্ধের অলিখিত নির্দেশ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাঁতিদের আমদানি সুপারিশ চালু করতে হবে।
৩. তাঁতিদের স্বার্থবিরোধী, অযোগ্য তাঁত বোর্ডের সদস্য দেবাশীষ নাগ এবং ডিজিএম রতন চন্দ্র সাহার অপসারণ করতে হবে
৪. চল্লিশ (৪০) বছর ধরে ঝুলে রাখা মিরপুরের বেনারসি ভাষানটেক প্রকল্পে তাঁতিদের দ্রুত পুর্নবাসন করতে হবে। 


বিজ্ঞাপন


ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁতি নেতারা বলেন, এর আগে তাঁতবোর্ডের সহায়তায় সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি করে স্বস্তিতে ব্যবসা করছিলেন তাঁতিরা। কিন্তু তাঁতবোর্ড গত দেড় বছরে তাদেরকে সুতা, রং রাসায়নিক আমদানি সুপারিশ করেনি। ফলে খোলা বাজারে এসবের মূল্য দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে যে কাপড়টি তৈরি করতে খরচ হতো ৫০০ টাকা, সেটি এখন তৈরি করতে খরচ হচ্ছে এক হাজার টাকা। এ কারণে দেশের অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে। এভাবেই এখন তাঁতশিল্প ধ্বংসের পথে।

নেতারা বলেন, নতুনভাবে বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতি অনুমোদনের পর কোনো সুপারিশের মালামাল আমদানি বা বণ্টন কোনো কিছুই দেওয়া হয়নি। শুধু জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে দেশের তাঁতিরা প্রতিদিন লোকসানের মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এক সময় দেশের তাঁতশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে। 

আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত নতুন এসআরও নং ২০০-আইন/২০২৪/৫২ কাস্টম্‌স, তারিখ ১৯/৫/২০২৪ইং এর মাধ্যমে যে শর্তারোপ করা হয়েছে সেই শর্ত সম্পূর্ণ পরিপালন করেই তাঁতিরা মালামাল আমদানি করে আসছে। এর বাইরে কোনো নতুন শর্ত সাধারণ তাঁতিরা মানতে রাজি নয়। বিতর্কিত তাঁতবোর্ডের কর্মকর্তারা কৌশলে তাঁতিদের স্বার্থবিরোধী মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে ঢাকার মিরপুরে ৪০ একর জায়গার উপর তাঁতিদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যানারশিপল্লী ভাষানটেক প্রকল্প তাঁতবোর্ড কর্তৃক তাঁতিদের পুনর্বাসন না করে ৪০ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ সমস্যা অবিলম্বে সমাধান করতে হবে। 


বিজ্ঞাপন


কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন তাঁতি মো. আশরাফ আলী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন  সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা মাধ্যমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, বেনারশী পল্লী মীরপুরের সাধারণ সম্পাদক মো. কাশেম, মীরপুর ২ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি শামিম আক্তার সিদ্দিক, মিরপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি আবু হানিফ মোল্লা, মিরপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি মো. রফিক, মিরপুরের তাঁতি নেতা আবুল কালাম, শাহজাদপুর পৌরসভা ৬ নম্বর  প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য মোহাম্মদ আশরাফ আলী, উল্লাপাড়া দুর্গানগর ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য মো. ইউসুফ আলী, সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল গনি মোল্লা, বেলকুচির ভাঙ্গা বাড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির  সভাপতি হাজী মো. গোলাম মাওলা ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীর তাঁতি প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল গনি।  
 
ক.ম/ 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর