সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েনের প্রভাব খাদ্য পরিস্থিতির ওপর পড়বে না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েনের প্রভাব খাদ্য পরিস্থিতির ওপর পড়বে না’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব খাদ্য পরিস্থিতির ওপরে পড়বে না বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) দেশের খাদ্য মজুত পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান খাদ্য উপদেষ্টা। সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্যের সংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব খাদ্য পরিস্থিতির ওপরে পড়বে না। দুই দেশের মধ্যে এখনও বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে চালটা আমরা আমদানি করি টাকায়। মানে যেটাই বলেন তারাও এটা বিক্রি করে। বাজারটা কিন্তু ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের প্রয়োজন। বিক্রেতা বাজারে আসতে হয় তার বিক্রি করার দরকার আছে। আমরাও বাজারে যাই কারণ আমাদের কেনা দরকার। ঠিক তেমনভাবে আমরা ভারত থেকে চাল আমদানিকে আমরা রাজনৈতিকভাবে আমরা দেখি না। আমরা এটাকে দেখি বাজারের মেকানিজম হিসেবে। আমরা দেখি যেখানে কম দাম সেখান থেকে কিনি।

গম আমদানি নিয়ে তিনি বলেন, গমের পুরোটাই কিন্তু ইনপুট গম। আমাদের দেশে গমের চাহিদা বছরে ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আমাদের দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ১০ লাখ মেট্রিক টন। বাকি সবটাই আমদানি করা। আর চালের সিংহভাগ লোকাল এবং কিছু পরিমাণ আমদানি করা হয়েছে। আরও কিছু পরিমাণ আমদানি চ্যানেলের মধ্যে আছে। এবার আমদানির পরিমাণটা শেষ হওয়ার পর আপনারা এটা বলতে পারবেন। অন্যান্য বাড়তি আমদানির পরিমাণ কমে যাবে আশা করছি। আমাদের এখন স্টক যা আছে পাশাপাশি আমাদের স্টক বাড়ানোর লিমিটেশনও আছে।

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, গত বছর সরকার পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম বেড়েছিল। তবে এ বছর খাদ্যশস্যের মজুত সবচেয়ে বেশি থাকায় চালের দাম বাড়বে না বলে আশা করছি।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি গুদামে ২০ লাখ ২৭ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের সর্বোচ্চ ২৪ লাখ টন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুদ বাড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে।

আসন্ন বোরো মৌসুমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি। চলতি আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের হারও সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন খাদ্য উপদেষ্টা।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, গত পাঁচ বছরের তুলনায় চলতি বছর খাদ্যশস্যের মজুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি জানান, দেশের বর্তমান খাদ্য মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সরকারি খাদ্য গুদামে বর্তমানে ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ টন চাল, ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ টন গম এবং ৯ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ টন ধান মজুত রয়েছে।

এমআইকে/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর