রাজধানীর কাওরানবাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেডে ছুড়ে পুলিশ ব্যবসায়ীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা ও র্যাবও মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ানবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, অবৈধ ফোন আমদানি ও বিক্রির বিরুদ্ধে বিটিআরসি কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন ব্যবসায়ীরা। মাসখানেক ধরে তারা মন্ত্রণালয়ের নানা শর্ত শীথিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। একইসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টার দিকে ব্যবসায়ীরা কারওয়ানবাজার মোড়ে জড়ো হন। দুপুর ১২টার দিকে সড়কে বসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক ছাড়ার অনুরোধ জানালেও ব্যবসায়ীরা রাজি হননি।
বিজ্ঞাপন
একপর্যায়ে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা সড়কে বসে পড়লে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করে। পরে ব্যবসায়ীরা অন্য স্থানে গিয়ে পুনরায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এ সময় পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি চলে।
শেষ পর্যন্ত পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। নিরাপত্তা জোরদারে পরে সেনা ও র্যাব মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সময় কারওয়ানবাজার থেকে বাংলামোটর ও ফার্মগেটমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পুলিশের ধাওয়ার মুখে আন্দোলনকারীরা সরে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ফাঁকা হয়ে যায়।
এমআইকে/এমআর

