সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন। মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এসব মানুষ। এর মধ্যে ৬৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। এছাড়া রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। আর নৌ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৮ জনের।
সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে হয়েছে। এছাড়াও দেশে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪.২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ০.৬৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহন খাত সংস্কার না করায় দেশের মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি, সড়কের নিরাপত্তা ও ভাড়া নৈরাজ্য পরিবহন মালিকদের ইচ্ছের বন্দি দশা থেকে মুক্তি মেলেনি।
মোজাম্মেল হক জানান, তিন পথে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনা ৬.৯৪ শতাংশ, নিহত ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহত ১৪.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
সড়ক ছাড়াও রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত, ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সড়কে দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ ও আহতের ১৪.৯৮ শতাংশ।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহনখাত সংস্কার সড়ক নিরাপত্তা, উন্নত গণপরিবহন ও যাত্রী অধিকারের বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা। নির্বাচনী এলাকার অধিবাসীদের সড়ক নিরাপত্তা, যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবের বিষয়ে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারে অর্ন্তভুক্ত করা। সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু করা। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি নাগরিককে সরকারের ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে সহজে ও দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলে সরকার ঘোষিত ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা, পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাদাঁবাজি বন্ধ করা।
গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস প্রদান ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে উন্নত বিশ্বের কারিকুলাম চালু করা। ভয়াবহ ধুলিদূষণে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে ঢাকনাবিহীন রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশার পরিবর্তে দেশের সব নগরীতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইলেকট্রিক এসি বাসের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ট্রাফিক পুলিশের গতানুগতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সড়কে বৈধ যানবাহন ও অবৈধ যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন প্রবর্তন করা। প্রতিটি জাতীয় মহাসড়কে ছোট ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন তৈরি করা। গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ তহবিলসহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পক্ষে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধি অর্ন্তভুক্ত করা।
এমআইকে/এমআর

