তেজগাঁও কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খাঁন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে সাকিবুল হাসান রানা হত্যার বিচার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ফার্মগেট মোড় অবরোধ করে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে দুপুর ১২টার দিকে যান তেজগাঁও ডিসি। সেখানে গিয়ে তিনি জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও ধরার চেষ্টা চলছে। রাজধানীর বাইরে ডিবির দুটি দল একযোগে অভিযান চালাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এরইমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ডিবি টিম ঢাকার বাইরে কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা আছেন, তারা যে পর্যায়েরই হোন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি নিশ্চয়তা দেন।
তেজগাঁও ডিসি বলেন, ডিবি পুলিশ কাউকে আশ্রয় দেয় না বা আড়াল করে না। অপরাধী অপরাধীই। পুলিশের কাছে সবাই সমান এবং আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। ডিবি মাত্র দুই দিন আগে মামলার দায়িত্ব পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কলেজটির শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসের ছাদে মাদক সেবন করতে দেখে সাকিব ও তার কয়েকজন বন্ধু তাদের বাধা দেয়। এই বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেদিন রাতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে বিচার বসে। সেই বিচারে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোরশেদ তরুণসহ আরও অনেকে। কিন্তু তারা মাদক সেবনকারীদের পক্ষ নিলে হোস্টেলটির ছাত্ররা তাদের ধাওয়া দেন। পরে তারা ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে এসে হোস্টেলের প্রতিটি রুমে ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এতে ওই সময় সাকিবও আহত হন। সাকিবকে তারা মাথায় হাতুড়ি ও রড দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারদিন পর ১০ ডিসেম্বর সাকিব মালিবাগের একটি হাসপাতালে মারা যায়। উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন সাকিবুল হাসান রানা। এ ঘটনায় তার পরিবার মামলা করতে চাইলেও পুলিশ নেয়নি।
এমআইকে/এফএ

