সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের শেষ দিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ এএম

শেয়ার করুন:

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের শেষ দিন আজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের শেষ দিন আজ রোববার। যাচাইবাছাই শেষে ৩০০ আসনের ৬৯ জন জন রিটার্নিং কর্মকর্তা কতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং কতজনের বাতিল করা হয়েছে তা ঘোষণা করবে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানায়।


বিজ্ঞাপন


ইসি কর্মকর্তা জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে।

তিনি আরও জানান, প্রতি সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও আপিল আবেদন গ্রহণের জন্য ইসির ১০ প্রশাসনিক অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথ করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণ শেষ শুনানি করার মাধ্যমে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেসব কারণে মনোনয়ন বাতিল করেছেন, আপিলে সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। যদি দেখা যায় বাতিলের কারণ সঠিক নয়, তাহলে আইন অনুযায়ী মনোনয়ন গ্রহণ করা হবে।


বিজ্ঞাপন



আপিলে মানতে হবে যে সাত নির্দেশনা—

১. আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে।

২. আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।

৩. আপিল আবেদনের ১টি মূলকপিসহ সর্বমোট ৭টি (সাত) কপি দাখিল করতে হবে।

৪. আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।

৫. আপিল আবেদন ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ হইতে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

৬. আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরম-এ আবেদন দাখিল করতে হবে। উক্ত ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

৭. আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আপিল দায়েরের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থাকবে ১০টি বুথ।

বুথ নং-১ (খুলনা অঞ্চল):

মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা।

বুথ-২ (রাজশাহী অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।

বুথ-৩ (রংপুর অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।

বুথ-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল):

জেলা সমূহ হচ্ছে- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান।

বুথ-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর।

বুথ-৬ (সিলেট অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।

বুথ-৭ (ঢাকা অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।

বুথ-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।

বুথ-৯ (বরিশাল অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর।

বুথ-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল):

জেলাসমূহ হচ্ছে- রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর।

ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি এরমধ্যে ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আর ৮ দল কোনো প্রার্থী দেয়নি; দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।


এমএইচএইচ/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর