ভারত পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সংঘাতমুখী করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদি।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’ নামক অবৈধ কালো চুক্তি বাতিলের দাবিতে নাগরিক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
আল হাদি বলেন, ‘ভারত পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সংঘাতমুখী করে তুলছে, যা বাংলাদেশের ভৌগোলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ২,৯৭৯ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত ভারতের সঙ্গে যুক্ত, যা ভৌগোলিকভাবে দেশটিকে অধিক ঝুঁকিতে রাখে। তুলনামূলকভাবে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে আয়তনে প্রায় ২২ গুণ এবং জনসংখ্যায় ৮ গুণ বড়। ভারত আমাদের প্রতিবেশী হলেও আমাদের সমমর্যাদার রাষ্ট্র হিসেবে আচরণ করে না; একটি কর্তৃত্বমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতিগতভাবে দুর্বল করা। ভারত আমাদের অর্থনীতি দুর্বল করতে, রাজনীতিবিদদের প্রভাবিত করতে এবং জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’
কাশ্মীরের উদাহরণ টেনে আল হাদি বলেন, ‘ভারত সেখানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর শক্ত সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। একইভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও ভৌগোলিক আগ্রাসনের পটভূমি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।'
তিনি আরও বলেন, ‘ফেনী নদী আমাদের একটি দুর্বল পয়েন্ট। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে কিছু নৃগোষ্ঠীর কাছে অর্থ ও অস্ত্র পৌঁছে দিয়ে ভারত সেখানে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে। মনিপুর ও মিজোরামে মোতায়েন করা ভারতীয় বাহিনীর একটি অংশ যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হতে পারে। শিলিগুড়ি করিডোরে ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগকেও উদ্বেগজনক।’
বিজ্ঞাপন
রাজনীতিতে ভারতীয় প্রভাব প্রসঙ্গে শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার হান্নান আল হাদি বলেন, ‘দেশের ভিতরে ও বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে 'তাদের অনুকূলে আনার' চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে আগ্রাসনের পথকে সহজ করতে পারে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও সামাজিক অঙ্গনেও ভারত নানামুখী প্রভাব বিস্তার করছে। রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মীয় মূল্যবোধকে হ্রাস করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।’
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মীয় ও জাতীয় চেতনা থেকে বিচ্যুত হলে স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব নয়। ইসলামিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, সামরিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে তিনি ভারতীয় কনটেন্টের প্রভাব কমানোর আহ্বান জানান।’
এএইচ/এমআই

