ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্যোগের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। নিয়ন্ত্রণহীন নগরায়ন, ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা বিধি না মানা, জলাশয় ও প্লাবনভূমির উপর অনিরাপদ বহুতল ভবন তৈরির জন্য এই ঝুঁকি বাড়ছে।
ফলে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা, জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) প্রতিষ্ঠা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) অনলাইনে আয়োজিত সমসাময়িক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণ বিষয়ক ‘ভূমিকম্প, অগ্নিকান্ডে বিপর্যস্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকার পরিকল্পনাগত সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্যোগের কারণে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকা অনিরাপদ ও অবাসযোগ্য। শহরের পরিকল্পনাকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অগ্রাহ্য করে নগরায়ন হয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন। পাশাপাশি ঢাকামুখী জনস্রোতকে ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে। ভবন নির্মাণ ও আবাসন প্রকল্পগুলোতে বিল্ডিং কোড ও বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগের অভাব রয়েছে।
জলাশয়, জলাভূমি, প্লাবনভূমির উপর ভরাট করা দুর্বল মাটির উপর নির্বিচারে অনিরাপদ বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব, ভূমি মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও লোভ এবং সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ঢাকার নগর এলাকায় জীবন এখন মারাত্মকভাবে অনিরাপদ। ঢাকার অনিয়ন্ত্রিত, অপরিকল্পিত ও অপরিণামদর্শী নগরায়ন রোধ করতে না পারলে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার কার্যকর কোনো উপায় নেই।
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্প ও শহরের বাসযোগ্যতা বিবেচনায় না নিয়েই ব্যবসায়ীদের চাপে ড্যাপ পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই সকল পরিবর্তনে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন, মাটির ভারবহন ক্ষমতা ও ঢাকার সিসমিক মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ।
বিজ্ঞাপন
ফলে ঢাকাকে বাঁচাতে ড্যাপ পরিবর্তনের মাধ্যমে অযাচিতভাবে এফএআর ও জনঘনত্ব পরিবর্তন করতে গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন, ভূমির শ্রেণিবিন্যাস ও শহরের ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে শহরের বিশদ পরিকল্পনা করতে হবে। বিএনবিসি কার্যকর করতে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) অতি দ্রুত গঠন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। এছাড়া বক্তব্য দেন- আইপিডি উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, বিআইপির সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক ও আইপিডির রিসার্চ ফেলো কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী ড. ফরহাদুর রেজা, একিউমেন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ তাহের, শেলটেক কনসালট্যান্টের পুর প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ সজীব, আইপিডি গবেষণা সহকারী জিনিয়াস জান্নাত, গবেষণা সহকারী কাজী তাসনিয়া তাবাসসুম প্রমুখ।
এএইচ/এএইচ
