রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে মাদকের স্পট দখলে নিতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার নেপথ্যে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারী পার মনু ও পিচ্ছি রাজা গ্রুপের সদস্যরা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দারা আতঙ্কে বসবাস করছেন বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোরে জেনেভা ক্যাম্পের ৭ নম্বর সেক্টরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে গত চার দিন ধরে এমন হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে বলে জানান বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, চলতি বছরে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছেন। চলতি বছরে জেনেভা ক্যাম্পে অন্তত ৪০টি মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান হয়েছে। গত ১০ মাসে মাদক ও হত্যা মামলায় দেড় হাজারের বেশি গ্রেফতার হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেলের গ্রুপ অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জেনেভা ক্যাম্পের আরেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী চুয়া সেলিম। সম্প্রতি চুয়া সেলিমের সঙ্গে জোট বেঁধেছে ক্যাম্পের অন্যান্য মাদক কারবারি পার মনু, পিচ্ছি রাজা, শাহ আলম ও ইমতিয়াজ। তারা এখন ৭ নম্বর সেক্টর দখল করতে চাচ্ছে। সর্বশেষ কয়েক দিন ধরে ভোরে ক্যাম্পের ৭ নম্বর সেক্টরে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে। এমন হামলায় আতঙ্কে রাত পার করছেন ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দারা।
ভয়ে নাম প্রকাশ করতে চাননি বাসিন্দারা। তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে রাতের অন্ধকারে ৭ নম্বর সেক্টরের অন্তত ৩০টি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মাদক কারবারিরা সুমিদ (২৪) নামের এক যুবককে কুপিয়ে আহত করেছে। সে জেনেভা ক্যাম্প ৭ নম্বর সেক্টর, জি ব্লকের বাসিন্দা সালামের ছেলে। বুনিয়া সোহেলের সহযোগি সন্দেহে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। সুমিদের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছেলেকে কুপিয়ে আহত করার কথা স্বীকার করেছেন, তবে হামলাকারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। ঘটনার তিন দিনেও থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা বুনিয়া সোহেলের বড় ভাই টুনটুনের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
হামলার কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে এই হামলার নেপথ্যে শীর্ষ মাদক কারবারি ও ঢাকার অন্যতম হিরো কারবারি আরিফ ওরফে চাপা আরিফ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বুনিয়া সোহেলের মাদকের কারবারে ভাটা পড়েছে। ফলে আরিফের মাদকের কারবারের গতি হ্রাস পায়। এর ফলে ৪ নম্বর সেক্টরের চুয়া সেলিম গ্রুপের পার মনু, পিচ্ছি রাজা, শাহ আলম ও ইমতিয়াজ গ্রুপকে হাতে নেয় আরিফ। তার মাদকের কারবার চালাতে এবার পুরো ক্যাম্প দখলে সহযোগির নামে রাতের অন্ধকারে অস্ত্রধারীদের দিয়ে বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। এই গ্রুপ এবার ৭ নম্বর সেক্টরসহ পুরো ক্যাম্প দখলে নিয়ে মাদকের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে চায়।
বিজ্ঞাপন
হামলার নেতৃত্বে যারা
রাতের অন্ধকারে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার রেশ থেকে বাদ যাচ্ছে না সাধারণ মানুষও। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে নিরাপদে ঘুমাতে পারছেন না বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ক্যাম্পের দক্ষিণ পাশের ৪ নম্বর সেক্টরের শীর্ষ মাদক কারবারি পার মনু, পিচ্ছি রাজা, চুয়া সেলিম, শাহ আলম ও ইমতিয়াজ হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের নেতৃত্বে লালন, রনি, তারেক, মাওরা রাসেল, টুকি, সামির, বিকি, ফেরদৌস, চুয়া সেলিম, নেতা সামির, চেম্বার রাজ, সুমন, পিচ্ছি রাজা, আদিল, ফাইজান, নওশাদ ও বেলুন অস্ত্র হাতে হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছেন।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিক বলেন, জেনেভা ক্যাম্পে হামলা ও লুটপাটের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। যে হামলার কথা বলা হচ্ছে, কেউ আমাদের জানায়নি। ক্যাম্পের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা মামলা করি ও আসামিদের গ্রেফতার করি। এখন কেউ আমাদের কিছুই জানাচ্ছে না। অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
একেএস/এআর

