শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা

পাবনায় সংঘর্ষের ঘটনায় ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটির উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

P
পাবনায় বৃহস্পতিবার জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষের পরের কয়েকটি চিত্র।

পাবনার ঈশ্বরদীতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী (পাবনা-৪) আবু তালেব মণ্ডলের সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটি।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) কমিটির সভাপতি সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার রাশেদুল হক এবং সদস্য সচিব ড. মো. শরীফুল আলম যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


বিজ্ঞাপন


বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গতকাল (২৭ নভেম্বর) পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি নির্বাচনি প্রচারণা কেন্দ্রের জায়গায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাদের ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষমূলক ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ওই ঘটনায় পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরীয়া) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল উপেজলার চরগড়গিড় গ্রামে গণসংযোগে গেলে প্রতিপক্ষের বাধার সম্মুখীন হন এবং সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ছয়জন গুলিবিদ্ধ এবং প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।’

‘বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সংঘটিত এ ঘটনা আমাদেরকে দারুণভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। বিশেষ করে এ ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার আসন্ন নির্বাচনি পরিবেশের জন্য এক অশুভ সংকেত। তাই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানাই, নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্নকারী এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য।’

‘একইসঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং ভোটগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তা জারি রাখার দাবি জানাচ্ছি, যাতে কোনো দল বা গোষ্ঠী নির্বাচনি পরিবেশে বিঘ্ন ঘটানোর বা ভোটকেন্দ্র দখল করার সুযোগ না পায়।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২৭ নভেম্বরের পাবনার ঘটনা আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে যে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর কার্যকরী অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী দমন অভিযান না হওয়ায় তা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমরা অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’


বিজ্ঞাপন


তারা বলেন, ‘একটি স্থিতিশীল, ন্যায়সঙ্গত এবং সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার নিমিত্তে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সকল দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের দায়িত্বশীল ও সংযমী ভূমিকা পালনের জন্যও আমরা একান্তভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

‘বিশেষ করে নির্বাচনি প্রচার ও জনসংযোগকালে সকল প্রকার অপপ্রচার, অসংলগ্ন আচরণ, কুৎসা উদগীরণ পরিহার ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকল দলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে ভোটগ্রহণের দিন সকল ভোটার নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট প্রদানে সক্ষম হন এবং একটি নতুন উষার উদয়-প্রত্যাশার পরিপূর্ণতা দেখতে পান।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের প্রচারণায় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের দফায় দফায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। 

এতে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। এসময় তার গাড়িসহ শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর