মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঘর পোড়া আব্দুল হাইয়ের খাবার কেনার টাকাও নেই পকেটে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

ঘর পোড়া আব্দুল হাইয়ের খাবার কেনার টাকাও নেই পকেটে
ঘর পোড়া আব্দুল হাইয়ের খাবার কেনার টাকাও নেই পকেটে। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল গৌরনদীর আব্দুল হাই আজ থেকে ১৫ বছর আগে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আসেন। এক যুগেরও বেশি সময়ে তার দু’বার ঘর পুড়েছে। শেষবার গত মঙ্গলবার ঘর ও ঘরের নিচে থাকা হোটেল পুড়ে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়েছেন। এতটাই নিঃস্ব যে খাবার কিনতে তার পকেটে টাকাও নেই। গত তিন দিনে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিতরণকৃত কিছু খিচুড়ি পেয়েছিলেন, কিন্তু খেতে পারেননি।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানালেন, ঘটনার দিন বিকেলে আটা-ময়দা মেখে কেবল পরোটা ও রুটি তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডালও ছিল। ঠিক তখনই আগুনের শব্দ শুনতে পান। কিন্তু সময় পাননি কিছু নেবার। দ্রুত দোকান থেকে বের হয়ে যান। পরে এসে দেখেন তার খাবারের হোটেল ও হোটেলের ওপর থাকা থাকার রুমটিও পুড়ে গেছে, যেখানে তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকতেন।


বিজ্ঞাপন


তিনি বললেন, সব রেডি করেছি, শুধু রুটি ও পরোটাটা ভেজে বিক্রি শুরু করবো। ঠিক তখনই আগুন দেখে বের হই। এর কিছুক্ষণ পরই দেখি ঘরের ওপর আগুন। সব পুড়ে গেছে—কড়াই, পাতিল ও যত তৈজসপত্র ছিল, কোনোটাই নিতে পারিনি। ডাল, আটা, ময়দা সব পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ছোট্ট রাফি ভুলতে পারছে না শখের সাইকেলটির কথা!

শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সেখানে খাবার ও কম্বল বিতরণ করছিল। কিন্তু সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তার ভাগ্যে কোনো খাবার জোটেনি।

আব্দুল হাই বললেন, ছেলে দুইটা কোন দিকে যেন চলে গেছে। খাবারও খায়নি। নিজে খাবার কিনব, সেই টাকাও নেই। যারা দিচ্ছে, তাদের কাছে গিয়ে খাবার নিতেও লজ্জা লাগে। কাড়াকাড়ি করে তো খাবার নেয়া যায় না। হাতে টাকা থাকলে আজ বসে থাকতাম না, সকালেই ব্যবসা শুরু করতাম।


বিজ্ঞাপন


Untitled

তিনি জানালেন, আগুনে তার সব কিছু পুড়ে গেছে। ঘটনার দিন তিনি পাঁচ কেজি আটা ও তেলসহ যাবতীয় বাজার করেছিলেন। ভেবেছিলেন বিকেলেই বিক্রি শুরু হবে, তখন তো টাকা হাতে চলে আসবে। কিন্তু সেদিন থেকে আর কোনো টাকা আসেনি। খালি হাতে পোড়া ঘরের মধ্যে সময় কাটছে তার।

আব্দুল হাই তার হোটেল ও সেটির ওপর থাকা থাকার কক্ষে মিলিয়ে ছয় হাজার টাকা ভাড়া দিতেন। প্রতিদিন ভালোই আয় হতো। কিন্তু আগুন তাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তার ভাষ্য, টাকা থাকলে এতক্ষণে দোকান শুরু করতাম। দোকান শুরু করলেই চলতো। কিন্তু সেই টাকাও হাতে নেই।

আব্দুল হাইয়ের দোকানটির অধিকাংশ জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। তবে নান রুটি তৈরির চুলা অক্ষত আছে। দোকানের ভেতরে তার এক কর্মী বসে আছে। পোড়া দিনের ছাদ দিয়ে কোনোমতে ঘরটি সংস্কার করা হয়েছে। কালচে রঙের ঢেউটিনগুলোতে এখনও পোড়ার ক্ষত দগদগে। আর দোকানের সামনে একটি টুলে বসে তিনি আনমনে কিছু ভাবছেন।

এআর

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর