রোববার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা

কড়াইল বস্তির সব পুড়ে ছাই হলেও অক্ষত বৃদ্ধা মমতাজের দোকান

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

কড়াইল বস্তির সব পুড়ে ছাই হলেও অক্ষত বৃদ্ধা মমতাজের দোকান
দোকানে বসে আছেন মমতাজ বেগম। ছবি: ঢাকা মেইল

কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আশপাশের সবকিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে গেলেও অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছে বৃদ্ধা মমতাজ বেগমের মুদি দোকান। আগুনের সূত্রপাত ঘটে তাঁর দোকান থেকে প্রায় ১০ মিটার দূরে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দোকানের সাটার নামিয়ে তালা লাগিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এসে দেখেন, তাঁর দোকানের একটুও ক্ষতি হয়নি। স্থানীয়দের অনেকে এটিকে আলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) কড়াইল বস্তির বউবাজার ক ব্লকের মাজার গলির এই দৃশ্য বস্তিবাসীদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।


বিজ্ঞাপন


বাসিন্দারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় মনে হয়েছিল পুরো কড়াইল বস্তিই ভস্মীভূত হয়ে যাবে। জীবন বাঁচাতে সবাই ঘর ছেড়ে খোলা মাঠের দিকে ছুটে যান। কেউ ঘর থেকে কোনো আসবাবপত্র বের করতে পারেননি। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, মমতাজ বেগমের দোকানের কিছুই হয়নি। দোকানের উপর দোতলায় থাকা টিনশেড ঘর পুড়ে ছাঁই হয়েছে, চারপাশের সব ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু তাঁর দোকান অক্ষত রয়েছে। বিষয়টি তাদের কাছে আলৌকিক মনে হয়েছে।

1

৬০ বছর বয়সী মমতাজ বেগমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা হয়। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমার দোকানের ঠিক সামনে দুই-তিনটি বাড়ির পরেই হঠাৎ আগুন লাগে। প্রথমে ভেবেছিলাম নিভে যাবে। পরে দেখি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তখন বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মতো সময় হবে। দোকানে কেউ ছিল না। আমার স্বামী আর ছোট ছেলে নামাজ পড়তে গেছে। আমি তাড়াতাড়ি দোকানের সাটার ফেলে তালা দিয়ে আল্লাহর নামে দোকান ছেড়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিই। 

তিনি বলেন, ভাবছিলাম দোকান আর পাব না। গতকাল সকালে এসে দেখি, দোকানের কিছুই হয়নি। আল্লাহ রক্ষা করেছেন। অথচ দোকানের ওপরের টিনশেড, পাশের ঘর এবং আশপাশের সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানটি পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে। আল্লাহ নিজ হাতে আমাকে হেফাজত করেছেন।


বিজ্ঞাপন


2

মমতাজ বেগমের স্বামী নবী উল্লাহ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি আর ছেলে আছরের নামাজ পড়তে বের হয়েছিলাম। স্ত্রী দোকানে ছিল। হঠাৎ পাশেই আগুন লেগে যায়। আমরা ভেবেছিলাম সব শেষ। কিন্তু পরের দিন সকালে এসে দেখলাম আমাদের দোকানের কিছুই হয়নি। আশপাশের সবকিছু ছাঁই হয়ে গেলেও দোকান অক্ষত রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীরা বিস্ময়ের সঙ্গে দোকানটি দেখতে ভিড় করছেন। রিজিয়া বেগম নামে এক বাসিন্দা বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে যাই। কিছুই নিতে পারিনি। আগুন নেভার পর শুনলাম, খালার দোকানের কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনাটি সত্যিই আলৌকিক। আশপাশে সব পুড়ে গেলেও তাঁর দোকান অক্ষত আছে। এমন ঘটনা এই প্রথম দেখলাম।

একেএস/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর