বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপলের তৈরি গ্যাজেটগুলো মানুষের মাঝে এক আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছে। আইফোন, আইপ্যাড কিংবা আইম্যাক—প্রতিটি ডিভাইসের নামের শুরুতেই ছোট হাতের একটি ‘i’ অক্ষর দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই ছোট হাতের ‘i’ আসলে কিসের প্রতীক? বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই এর আসল অর্থ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, যদিও এর পেছনের ইতিহাসটি বেশ আকর্ষণীয়।
নামের আগে ছোট হাতের ‘i’ ব্যবহারের নেপথ্য ইতিহাস
সাধারণ ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ইংরেজি কোনো শব্দ বা নাম শুরু করার সময় প্রথম অক্ষরটি ক্যাপিটাল লেটার বা বড় হাতের হওয়াটাই দস্তুর। কিন্তু অ্যাপল খুব সচেতনভাবেই এই প্রথা ভেঙে তাদের গ্যাজেটের নামের শুরুতে ছোট হাতের ‘i’ ব্যবহার করে আসছে। ভিড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকার এবং প্রযুক্তির বাজারে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্যই অ্যাপল এই অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছিল। সর্বপ্রথম ১৯৯৮ সালে অ্যাপল তাদের বহুল আলোচিত ‘iMac’ কম্পিউটারের নামকরণে এই অক্ষরটি ব্যবহার করে।
‘i’ অক্ষরটি দিয়ে মূলত কী বোঝায় অ্যাপল?
আইম্যাক বাজারে আনার সময় অ্যাপলের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছিল যে, এই ছোট হাতের ‘i’ কেবল একটি সাধারণ অক্ষর নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু গভীর অর্থ। কোম্পানিটির মতে, এই ‘i’ মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে:
Internet (ইন্টারনেট): ব্যবহারকারীদের অনায়াসে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
Individual (ব্যক্তি): ডিভাইসগুলোর ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল ব্যবহার নিশ্চিত করা।
Instruct (নির্দেশ): শেখা বা কোনো কিছু বোঝার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়া।
Inform (তথ্য প্রদান): প্রয়োজনীয় এবং অর্থপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা।
Inspire (অনুপ্রেরণা): ব্যবহারকারীদের নতুন কিছু করার জন্য উৎসাহিত বা অনুপ্রাণিত করা।
অ্যাপলের মূল দর্শন ছিল এমন কিছু ডিভাইস তৈরি করা, যা কেবল সাধারণ কিছু গ্যাজেট হয়ে থাকবে না; বরং তা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত করবে, ব্যক্তিগত কাজে সহায়তা করবে এবং সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে তুলবে।
ব্র্যান্ড পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ
পরবর্তী সময়ে যখন অ্যাপল একের পর এক আইফোন, আইপ্যাড, আইপড এবং আইওয়াচের মতো বিপ্লবী পণ্যগুলো বাজারে নিয়ে আসে, তখনও তাদের সেই ‘i’ নামকরণের ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়। এটি মূলত এই ইঙ্গিতই বহন করত যে ডিভাইসগুলো ইন্টারনেট-সক্ষম এবং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করে তুলতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা।
আজকের দিনে এসে ছোট হাতের ‘i’ তার প্রাথমিক প্রযুক্তিগত অর্থকে ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং এটি এখন বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের ব্র্যান্ড পরিচয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে। যখনই সাধারণ মানুষ কোনো আইফোন হাতে নেন, তারা এক পলকেই বুঝে ফেলেন এটি একটি খাঁটি অ্যাপল পণ্য। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইফোন আজ কেবল একটি সাধারণ স্মার্টফোনের গণ্ডিতে আটকে নেই; বরং এটি এমন একটি শক্তিশালী ডিভাইস যা ইন্টারনেট-সংযুক্ত, তথ্যবহুল এবং ব্যবহারকারীকে সবসময় অনুপ্রাণিত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
এজেড




