ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীর স্ত্রী রাবিয়া আক্তার ডেইজির নামে মিথ্যা চেক চুরির মামলা করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার নিজেদের জীবন বাঁচাতে একাধিক স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পরিবারটি নিজ বাড়িতে ঢুকতেও সাহস পাচ্ছে না।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী রাবিয়া আক্তার ডেইজি।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরে আশুগঞ্জের বিএনপি নেতা কামাল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাকে বিশ্বাস করে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো অর্থ দিয়ে জমি কেনার পরিকল্পনা করেন। সেই প্রক্রিয়ায় লক্ষাধিক টাকা কামাল হোসেনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জমির দাম বাড়ার অজুহাতে আরও টাকা দাবি করা হয়। আলোচনার পর ডেইজি জমি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলে টাকা ফেরত দেওয়ার নামে একটি চেক তাকে প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, চেকে উল্লেখিত ৪০ লাখ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলনের চেষ্টা করলে স্টপ পেমেন্ট সিল দেখায়। পরে আইনগতভাবে নোটিশ পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধেই চেক চুরির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রভাব ব্যবহার করে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলার তদন্তে পুলিশ মূল চেকটি সংগ্রহ করতে চাইলে ডেইজি চেকটি আদালতে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন এবং পুলিশকে তা জানান। এরপর থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও দলীয় অনুসারীদের মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের ওপর চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি আসতে থাকে। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তিনি এলাকাছাড়া হন এবং আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, কামাল হোসেন আশুগঞ্জ থানার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। রাজনৈতিক পদ ও দলীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব বিস্তার করেন বলে দাবি করা হয়। তার বিরুদ্ধে নারীসহ একাধিক মানুষের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের অপব্যবহারেরও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
পরিবারকে হুমকি, মামলা, চাপ এবং নিপীড়নের কারণে ডেইজি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, মামলা ও হুমকির কারণে সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, স্বাভাবিক জীবন-যাপন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং সামাজিকভাবে অপমানিত হচ্ছেন তারা। এ ছাড়া মামলা প্রত্যাহার ও জীবননাশের ভয় দেখিয়ে আপস করারও প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে ডেইজি জানান, তিনি এখন আইনগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে প্রভাবশালী পক্ষের কারণে তদন্ত নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তিনি আশুগঞ্জ থানা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান, যাতে ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হয় এবং তার পরিবার নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারে।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এএইচ/এআর

