সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ছিনতাই করতে না পেরে সহযোগীকে হত্যা করে ছিনিয়ে নিল অটোরিকশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ছিনতাই করতে না পেরে সহযোগীকে হত্যা করে ছিনিয়ে নিল অটোরিকশা

অটোরিকশায় করে ঘুরে ঘুরে একসঙ্গে ছিনতাই করত জালাল ও নুরু। একদিন তিনজন মিলে জালালের অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাই করতে বের হয়। এরপর কোথাও ছিনতাই করতে না পেরে নিজের সহযোগীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার তদন্তে নেমে এমন রহস্য উদ্ঘাটনের খবর জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের শুভাঢ্যা পূর্বপাড়া এলাকার একটি ডোবা থেকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জালাল শিকদার নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে জালাল তার ভাড়া বাসা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্বামী হত্যার ঘটনায় জালালের স্ত্রী হনুফা বেগম পরদিন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শেখ নুরু ও মোজাম্মেল মোল্লাকে গত ১১ অক্টোবর শাহ আলী থানার গুদারাঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে তারা জালালকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কদমতলী থানার হাবিবনগর খানকা শরিফ এলাকার সোহেল মিয়ার গ্যারেজ থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত ৩

তিনি আরও জানান, তদন্তে পিবিআই জানতে পারে নিহত জালাল ও আসামি নুরু দুজনেই পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা প্রায়ই রাতে একসঙ্গে চুরি-ছিনতাই করত। তবে ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর নিজেদের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি দখলের পরিকল্পনা করে নুরু।


বিজ্ঞাপন


গ্রেপ্তার নুরু পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে, সেদিন রাতে জালালকে ফোনে ডেকে কদমতলী এলাকায় দেখা করেন। তারা চুরি-ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বের হলেও ব্যর্থ হয়ে ফেরার পথে নুরু জালালের অটোরিকশা দখলের পরিকল্পনা করেন। এ সময় কদমতলী চুনকুটিয়ার এক দোকানে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে জালালকে খাওয়ান নুরু। অচেতন অবস্থায় জালালকে শুভাঢ্যা পূর্ব কামারপাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে লাশটি ডোবায় ফেলে দেন।

এরপর অটোরিকশাটি চালিয়ে নুরু রায়েরবাগ এলাকায় গিয়ে অপর আসামি মোজাম্মেল মোল্লার কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

একেএস/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর