ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এল.এ অফিসে) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণের টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে কর্মকর্তারা জমির মালিকের আবেদনেও কোনো কর্ণপাত করেননি। অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভূমি অধিগ্রহণের পাওনা টাকা আদায়ের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. নুরুল ইসলাম।
অভিযোগকারী নুরুল ইসলাম ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার মালিপুর গ্রামের মৃত মাইন উদ্দিন জমাদ্দারের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায় বসবাস করছেন।
নুরুল ইসলামের অভিযোগ, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় জে.এল. নম্বর ৬, সিটি দাগ নম্বর ৫৯০৬-এর ০৩৬৮ একর সম্পত্তি এল.এ কেস নম্বর ০৩.১৫.২/২০১৯-২০২০ এর মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই সম্পত্তির প্রকৃত মালিক তিনি হওয়া সত্ত্বেও অধিগ্রহণের নোটিশ মো. আব্দুল জব্বার নামে এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়, যিনি ওই দাগে কোনো সম্পত্তির মালিক নন।
নুরুল ইসলাম বলেন, ৫৯০৬ দাগের কোনো খরিদ দলিল আব্দুল জব্বারের নামে নেই। ১৪৭ নম্বরের একটি জাল দলিল তৈরি করে ৩১ জনের নাম দেখানো হয়েছে, যাদের মধ্যে জব্বারের নামও নেই। উক্ত দলিল বাতিলের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি জানান, বাস্তবে যে রাস্তা অধিগ্রহণ করা হয়েছে তা ৫৯০৫ দাগের দক্ষিণাংশে, যা তার কেনা সম্পত্তির অংশ। কিন্তু তাকে নোটিশ না দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে অন্যদের।
অভিযোগে বলা হয়, নুরুল ইসলাম জমি মাপের সময় উপস্থিত ছিলেন এবং একাধিকবার এল.এ অফিসে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং কর্মকর্তারা তার আবেদনের বিষয়ে কর্ণপাত করেননি।
এই ভুক্তভোগী জানান, ২০২২ সালের ২৬ জুলাই আমি লিখিতভাবে আবেদন করি (ক্রমিক নং ৩৫৪০), ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান ও মো. আব্দুল্লাহ আল রনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষের শুনানি ছাড়া কাউকে টাকা দেওয়া হবে না। কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানজিলা আক্তার কোনো শুনানি ছাড়াই ২০২৪ সালের ২৮ মে প্রায় ৩৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার চেক অন্যদের হাতে তুলে দেন।
নুরুল ইসলামের অভিযোগ, অধিগ্রহণ অফিসের সার্ভেয়ার আ. হাফিজ ও আরও কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে তিরস্কার করেন এবং ঘুষ ছাড়া নাকি কোনো কাজ সম্ভব নয় বলে সরাসরি জানিয়ে দেন।
এই অভিযোগকারী দাবি করেন, ৫৯০৫ দাগের উত্তরে ৬ ফুট রাস্তা দলিলে উল্লেখ আছে, তবে চলাচলের সুবিধার্থে তিনি দক্ষিণাংশ ব্যবহার করতেন, যা অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। তাই তিনি ওই অংশের ক্ষতিপূরণের প্রকৃত দাবিদার। কিন্তু যোগসাজশে সেই টাকা দেওয়া হয়েছে স্বত্ববিহীন ব্যক্তিদের।
নুরুল ইসলাম বলেন, আমি নিরুপায় হয়ে বারবার এল.এ অফিসে গিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো শুনানি হয়নি, বরং আমাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রতিপক্ষ প্রকাশ্যে বলছে—‘টাকা লওয়া ঠেকাতে পারলি না, এখন আর কিছুই পাবি না।’
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম বলেন, অধিগ্রহণের টাকা জমির প্রকৃত মালিককে না দিয়ে কর্মকর্তারা প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।
এএইচ/ক.ম




