বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

চামড়া শিল্পে শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

চামড়া শিল্পে শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
চ্যানেল আইয়ের মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা। ছবি: সংগৃহীত

চামড়া শিল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হলেও শ্রমিকরা এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন না হওয়া, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঘাটতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে। তাই শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর চ্যানেল আইয়ের মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে ওশি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এ দাবি জানান। বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ওশি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপার্সন ড. এস. এম. মোর্শেদ।


বিজ্ঞাপন


1

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিলসের পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম, ওশি ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও প্রকল্প প্রধান মো. আলম হোসেনসহ সহ-বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

ইইউর অর্থায়ন ও সলিডার সুইসের কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রমিক অধিকার, ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধান, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ, বর্জ্য ও রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ দ্রুত অনুসমর্থন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

2


বিজ্ঞাপন


বক্তারা উল্লেখ করেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও ট্যানারি শিল্পাঞ্চলে উপযুক্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পুরো সক্ষমতায় কার্যকর না থাকায় শিল্পাঞ্চলে দূষণ বাড়ছে, যা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিল্পের টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঘোষিত ট্যানারি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার ১ টাকা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চামড়া শিল্পের জন্য পৃথক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) গঠন প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করা, পৃথক টিসিসি গঠন এবং শিল্পকে ইপিজেডের আওতায় আনার বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।

3

তারা আরও বলেন, প্রায় ১০ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। অথচ লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ না থাকায় গত কয়েক বছরে এ খাতে রপ্তানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে শোভন কর্মপরিবেশ ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কমপ্লায়েন্স এখন সময়ের দাবি।

সমাপনী বক্তব্যে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, শোভন কর্মপরিবেশ কেবল শ্রমিকের অধিকার নয়, এটি টেকসই শিল্পোন্নয়নের পূর্বশর্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে শ্রমিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার দিকে এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর