বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ
কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দিতে শনিবার (০৪ অক্টোবর) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন, সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ছুটির দিনের মতোই স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ছিল। আগামীকাল রোববার থেকে সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে গেলে কর্মচাঞ্চল্যে সরগরম হয়ে উঠবে পুরো শহর।

কমলাপুর রেলস্টেশনসহ ঢাকার বড় রেলস্টেশনগুলোতে সকালে যাত্রীদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। ট্রেন থেকে নামার পর দ্রুত স্টেশন ত্যাগ করছেন যাত্রীরা। রাজধানীতে প্রবেশপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সায়দাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও ছিল একই দৃশ্য। বাস থেকে নামা যাত্রীদের বেশিরভাগই ব্যাগপত্র হাতে তাড়াহুড়ো করে গন্তব্যের পথে ছুটছিলেন। সায়দাবাদ এলাকায় দেখা গেছে, টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর যাত্রীরা রিকশা ও অটোরিকশার খোঁজে হিমশিম খাচ্ছেন। রাস্তায় অটোরিকশার সংখ্যা বেশি হলেও যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে।

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে দেখা গেছে স্বাভাবিক চিত্র। মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, জিরো পয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ছুটির দিনের মতোই গাড়ির চাপ কম ছিল। তবে অটোরিকশার আধিক্য চোখে পড়েছে। অন্যদিকে সায়দাবাদ, দয়াগঞ্জ ও ধোলাইপাড় এলাকায় ছিল তীব্র যানজট। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব এলাকায় ধীরগতিতে চলেছে যানবাহন। স্থানীয়রা জানান, ঢাকার প্রবেশমুখ হওয়ায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও অটোরিকশার চাপে এই যানজট সৃষ্টি হয়।

সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চার দিনের ছুটি ছিল। ১ ও ২ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটি এবং ৩ ও ৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন কর্মজীবীরা। সরকারি অফিস আগামীকাল রোববার থেকে পুনরায় শুরু হবে। ফলে কর্মস্থলে যোগ দিতে শনিবার থেকেই ঢাকায় ফিরেছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।

ঢাকায় ফিরতি মানুষের মুখে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা শোনা গেলেও সবার উদ্দেশ্য এক—কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দেওয়া। কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে আবার কেউ নৌপথে ঢাকায় ফিরেছেন। তবে ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার মতো তীব্র ভিড় বা ভোগান্তি দেখা যায়নি বলে জানান অনেকে।

কাকরাইল ও শান্তিনগর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তবুও গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।

রাজশাহী থেকে ট্রেনে ঢাকায় ফিরেছেন প্রসেনজিৎ কর্মকার। তিনি বলেন, বছরে একটি ঈদ আর পূজাতেই গ্রামে যাওয়া হয়। পূজার সময় আত্মীয়-স্বজন সবাই মিলে বাড়িতে আসেন। তাই এ সময়টা অনেক আনন্দে কাটে। মঙ্গলবার অফিস শেষ করে বাড়ি গিয়েছিলাম। এখন অফিস করতে হবে বলে আজ ঢাকায় ফিরেছি। যাওয়া-আসায় তেমন কষ্ট হয়নি, আনন্দ নিয়েই পূজা উদযাপন করতে পেরেছি।

একইভাবে বোরহান উদ্দিন নামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী চাঁদপুর থেকে সায়দাবাদে ফিরেছেন বাসে। তিনি জানান, ঈদের মতোই এবার ঢাকায় ফিরতি যাত্রীর চাপ ছিল। তবে দুর্ভোগ এড়াতে ভোরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম। এতে তেমন ভিড় বা কষ্ট হয়নি। অফিসে যেন ঠিক সময়ে যোগ দিতে পারি, সেই ভাবনাতেই শনিবার ফিরেছি।

কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় নাবিল আহমেদ নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি জানান, ট্রেন থেকে নেমে রিকশা পাওয়া গেছে। তবে ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। তারপরও ঢাকায় ফেরার আনন্দটাই আলাদা। পরিবারকে ছেড়ে আসা কষ্টের হলেও আগামী পূজার অপেক্ষায় থাকতে হবে। গুলিস্তান ও পল্টনে দেখা গেছে কর্মজীবী মানুষদের ছুটোছুটি। যারা শনিবার রাতে বা ভোরে ঢাকায় ফিরেছেন, তারা অফিসে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অফিসপাড়াগুলো এখনও ছুটির আমেজে থাকলেও রাস্তায় বাড়তে শুরু করেছে মানুষের চলাফেরা।

রাজধানীর একাধিক রিকশাচালক জানান, সকালে টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের চাপ থাকলেও দুপুরের পর থেকে ভাড়া করে যাত্রীদের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিতে হচ্ছে। প্রতিদিনের তুলনায় আজকে রিকশার ভাড়া একটু বেশি পাওয়া গেছে। ঢাকার প্রবেশমুখ ও টার্মিনাল এলাকাগুলোতে পুলিশের তৎপরতাও চোখে পড়েছে। 

এদিকে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানজট কমাতে তারা বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছেন।

এএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর