মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ভারতের রাষ্ট্রীয় ছাপাখানা থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে বিপুল জাল নোট!

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

ভারতের রাষ্ট্রীয় ছাপাখানা থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে বিপুল জাল নোট!
বাংলাদেশি টাকা ছাপছে ভারতের রাষ্ট্রীয় ছাপাখানায়, সীমান্ত পার করছে গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ জাল নোট দেশে ঢোকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। 

সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিভিন্ন রুটে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট প্রবেশ করানো হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


তার ভাষ্যমতে, এই জাল নোটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, তা খালি চোখে চেনা কঠিন। এমনকি দেশের ব্যাংকগুলোতে ব্যবহৃত অটোমেটেড যাচাই মেশিনেও এসব নোট শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

556034369_10163345771430767_1083136360448289601_n

জাল নোটগুলো তৈরির ক্ষেত্রে মূলত বাংলাদেশের আসল মুদ্রার মতো একই ধরনের কাগজ, নিরাপত্তা সুতার প্রলেপ, এবং হুবহু মিল থাকা হলোগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। এসব নোট দেখতে একেবারেই আসল টাকার মতো।

জুলকারনাইন সায়ের আরও দাবি করেন, এসব নোট ছাপানো হয়েছে ভারতের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত মুদ্রা ছাপাখানায়, যেখানে মূলত দেশটির নিজস্ব মুদ্রাও ছাপানো হয়। সেখান থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও গোপন পন্থায় জাল নোটগুলো সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


সায়ের তার পোস্টে কিছু ছবি ও স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। ওই স্ক্রিনশটগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায় হিন্দি ভাষায় (উৎস অনুযায়ী) লিখা আছে— ভাই, আপনি কি মাল নিতে যাচ্ছেন? যদি নিতে চান তাহলে দ্রুত জানান। আগামীকাল আমার কাছে আরও দুটি পার্সেল থাকবে। আমি সেগুলোর সঙ্গে আপনার পার্সেলগুলো দিয়ে দেব। যদি নিতে চান, তাহলে দয়া করে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা দিয়ে অর্ডার কনফার্ম করুন।

556475548_10163345771510767_2737225752787730562_n

স্ক্রিনশটে হিন্দি ভাষায় আরও লিখা ছিল, ‘আমি আপনাকে একটি নাম্বার দিচ্ছি। এই নাম্বারে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা দিয়ে অর্ডার কনফার্ম করুন এবং আপনার নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার পাঠান। মাল দুদিনের মধ্যে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।’

তার দাবি অনুযায়ী, এসব নোট অত্যন্ত কম মূল্যে বাংলাদেশি জাল নোট চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো— দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা, ভেতর থেকে অর্থনীতিকে ধ্বংস করা, এবং সন্ত্রাস ও নাশকতায় অর্থায়ন করা।

তিনি জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা ইউনিটগুলো জানে এবং প্রতিরোধে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে চ্যালেঞ্জ অনেক বড়, তাই এ মুহূর্তে জনসচেতনতা তৈরির দিকেও জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

556047616_10163345769650767_8523126209313642331_n

পোস্টের একপর্যায়ে জুলকারনাইন সতর্ক করে বলেন, যদি এই নোটগুলো বাজারে চলাচল শুরু করে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে। এমনকি সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থও বিপন্ন হতে পারে।

তবে, এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে সরকারি কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত দেশের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

556633737_10163345769750767_6598442490574638039_n

তবে সাংবাদিকের এই পোস্ট সামনে আসার পর গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। পাঠকদের উদ্দেশে জুলকারনাইন বলেন, ব্যাংকিং লেনদেনের সময় সতর্ক থাকুন, অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক নোট পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান, বাজারে লেনদেনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। 

সায়েরের মতে, যদি তার তথ্য সঠিক হয়, তাহলে এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধেও একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তাই তিনি এই ঘটনায় স্বাধীন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।

ঢাকা মেইলের পক্ষ থেকে জুলকারনাইনের এই তথ্য-উপাত্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর