রাজধানীর ভাটারা এলাকায় বাড়ি ফাঁকা পেয়ে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয়রা বিচার সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করতে শিশুটির বাবাকে চাপ দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ।
এক পর্যায়ে শিশুটি বেশি অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ভাটারার জোয়ারসাহারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্তের নাম- আনার হোসেন (৫০)। তিনি জোয়ারসাহারা এলাকায় পরিচ্ছন্নকর্মীর কাজ করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় শিশুটির শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটির বাবা জানান, তার দুই ছেলে-মেয়ে। এর মধ্যে মেয়ে সন্তানটি বড়। ছোট ছেলের বয়স দুই বছর। তিনি একটি হোটেলে কাজ করেন এবং তার স্ত্রী ছোট ছেলেকে নিয়ে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। এসময় বড় মেয়ে বাসায় একাই থাকতো।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিবেশী আনার হোসেন খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ঢুকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় তাকে ভয় দেখায়। পরে মেয়ের মা বাসায় এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। আমি বাসায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। কিন্তু দুই দিন পর তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হতে থাকায় আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই।
শিশুটির বাবা আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন সালিশ-মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে। এতে আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবশেষে মঙ্গলবার আমাদের বাড়িওয়ালার পরামর্শে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক বলেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শিশুটিকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে সে ওসিসিতে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান জানান, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। জড়িতদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ এখনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।’
একেএস/এএইচ




