বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

অপহরণের ‘ট্রমা’ কাটছে না বৈষম্যবিরোধী নেতা মামুনের

একে সালমান
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

অপহরণের ‘ট্রমা’ কাটছে না বৈষম্যবিরোধী নেতা মামুনের
‘নিখোঁজ’ বৈষম্যবিরোধী নেতা মামুনকে পূর্বাচল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজধানীর পূর্বাচল ১ নম্বর সেক্টরের একটি মসজিদ থেকে উদ্ধার করা হয় জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও তুরাগ থানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা মামুনুর রশীদকে। নিখোঁজের ১০৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করে তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মামুনের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। ঘন ঘন বমি করা ছাড়াও মাঝেমধ্যে জ্ঞান হারাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেও দুর্বলতার কারণে ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। ঘুমের ঘরে আঁতকে উঠছেন বারবার।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান মামুনের স্ত্রী খাদিজা বেগম।

MAMUN_DMতিনি বলেন, ‘গতকাল উদ্ধারের পর মামুনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। গতরাতে দুবার আর আজ সকালে তিনবার অজ্ঞান হন। ঘন ঘন বমি হচ্ছে। শরীর একেবারে দুর্বল হওয়ায় ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছেন না।’

কামরুল ইসলাম নামে মামুনের এক শুভাকাঙ্ক্ষীর অভিযোগ, মামুন নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করেনি। তিনি বলেন, ‘গতকাল তাকে উদ্ধারের পরও পুলিশ বলছে মামুন অপহৃত হয়নি, ইচ্ছাকৃতভাবে নিখোঁজ ছিলেন। আমাদের মনে হচ্ছে পুলিশ ঘটনাটি আগে থেকেই জানত, কিন্তু গোপন রাখার চেষ্টা করেছে। মামুন বলেছেন, সুস্থ হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে সব জানাবেন।’

মামুনুর রশীদ ২২ সেপ্টেম্বর সকালে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। ওই দিনই তার স্ত্রী তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে জানানো হয় ঘটনাটি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ গত বৃহস্পতিবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লেখেন, রাষ্ট্র নাগরিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মামুনের নিখোঁজ হওয়া ও খোঁজ না মেলার ঘটনায় সরকারের গাফিলতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা স্পষ্ট।

গণমাধ্যমের ‘নীরব ভূমিকা’ নিয়েও ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার আশঙ্কা, এমন ঘটনায় রাজনীতিতে পুরোনো ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে।

মামুনের খোঁজ চেয়ে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করে তার পরিবার। সেখানে মামুনের মা-বাবা সন্তানের জীবিত ফেরার আকুতি জানান।

কীভাবে অপহৃত হন মামুন

মামুনের পরিবার জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর রাতে একটি অচেনা নম্বর থেকে তাকে সরাসরি অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন ভোরে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ৬টার দিকে তিনি একটি অটোরিকশায় করে বের হন।

উদ্ধারের পর মামুন জানান, কিছুদূর যাওয়ার পর তিনজন ব্যক্তি তাকে বলে কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে, সেখানে যেতে হবে। তাদের সঙ্গে হেঁটে বাজারের সামনে গেলে আগে থেকে দাঁড় করানো একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় তাকে।

একেএস/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর