হঠাৎ নেমে আসা টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, মুচি, হকার, চায়ের দোকানদার ও সবজি বিক্রেতাদের আয় একেবারেই কমে গেছে। সারাদিন রাস্তায় বসে থেকেও কাজ নেই, গ্রাহক নেই, ফলে দিনের শেষে পকেট ফাঁকা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে বাড়ি।
শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরেও অব্যাহত ছিল। শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে থাকায় সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরোয়নি। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম, আর যে রিকশা চলছে, যাত্রী না থাকায় চালকরা বসে বসেই সময় কাটাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
লক্ষ্মীবাজার ফুটপাতে বসে থাকা এক মুচি বলেন, ‘সারাদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে, তাই এখনো পর্যন্ত একটা কাজও হয়নি। অন্য সময় অন্তত দু-চারজন জুতো সেলাই বা পালিশ করাতে আসে। কিন্তু আজ মানুষজন বৃষ্টির কারণে বাইরে বেরোচ্ছে না। খালি বসে বসেই সময় পার করছি।’

একই আক্ষেপ ভেসে আসে সবজি বিক্রেতার কণ্ঠে। তার ভাষায়, ‘আজকের বেচাকেনা অন্য দিনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বৃষ্টির জন্য মানুষ বাজারে আসছে না, তাই সবজি বোঝাই করেও বিক্রি হচ্ছে না। প্রতিদিন যে সবজি শেষ হয়ে যায়, আজ দুপুর গড়িয়ে গেলেও বেশির ভাগই পড়ে আছে। বৃষ্টির কারণে বিক্রি একদমই কমে গেছে।’
বিজ্ঞাপন
টানা বৃষ্টির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দিনমজুরদের জীবনে। যারা নির্মাণ শ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক কিংবা সড়কে ভ্যানে মাল বহন করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা আজ পুরোপুরি বেকার।
মোহাম্মদ আলমগীর, এক নির্মাণ শ্রমিক, বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সাইট বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না করলে মজুরি নেই। আর মজুরি না হলে সংসার চালাব কীভাবে? এখন তো চাল-ডাল-সবকিছুর দাম বেশি।’

রিকশা চালিয়ে যারা প্রতিদিনের আয়েই সংসার চালান, তাদের জন্যও দিনটি কষ্টকর হয়ে উঠেছে। শহরের অলিগলিতে কয়েকজন রিকশাচালককে বসে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই।
রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘সকালে ভেবেছিলাম বৃষ্টিতে ভাড়া বেশি পাব। কিন্তু মানুষই রাস্তায় নাই, তখন ভাড়া পাব কীভাবে? এখনো ১০০ টাকাও রোজগার করতে পারিনি।’
রাস্তায় ভিজে গলিপথে বসে থাকা ছোট ছোট চায়ের দোকান, বাদামওয়ালা বা ঝালমুড়িওয়ালাদের ব্যবসাও একেবারে মন্দা। সাধারণত পথচারী কিংবা অফিসফেরত লোকজন তাদের প্রধান ক্রেতা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে যখন মানুষই ঘরে, তখন এ ব্যবসায়ীদের অবস্থাও শোচনীয়।

দিনভর বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভিজে একদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা নিদারুণ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা জানেন না আগামীকাল কীভাবে সংসার চলবে। নগরের চাকচিক্যের আড়ালে তাদের এই কষ্টই প্রমাণ করে বৃষ্টি প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ হলেও খেটে খাওয়া মানুষের কপালে তা চিন্তার ভাঁজ হয়ে আসে।
এম/জেবি




