বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র কমন পড়ার টোপ দিয়ে বহুদিন ধরে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে আসছিল একটি প্রতারক চক্র। সেই চক্রের অন্যতম সদস্য মতিউর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মতিউর রহমান জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাসির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চাকরির পাশাপাশি পিএসসির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কমন দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনা জানতে পেরে পিএসসির সহকারীর পক্ষ থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করা হয়। শেরে বাংলা নগর থানায় একটি মামলাও করা হয়।
পরে তার তথ্য যাচাই করে মতিউরকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এসময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি ল্যাপটপ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিআইডির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম।
যেভাবে প্রতারণা করতো মতিউর ও তার চক্র
বিজ্ঞাপন
পিএসসির বিভিন্ন নন-ক্যাডার চাকরি প্রার্থীদের পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ কমন সাজেশন দেওয়ার নাম করে সাধারণ চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত সংঘবদ্ধ চক্রটি। তারা নিয়োগ পরীক্ষার আগে নিশ্চিত সাজেশনের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুক পেইজে ‘এটিইও’-এর জন্য সিক্রেট শিট, কেউ হাতছাড়া করবেন না এই সুযোগ- বলে প্রচারণা চালাতো।
শেষ মূহূর্তের চূড়ান্ত সিক্রেট সাজেশন শিটে থাকতো মাত্র ৫৫০টি এমসিকিউ, সঙ্গে উত্তর। হুবহু কমন পাবেন ৮০-৯০ শতাংশ ক্যাশ অন ডেলিভারি ৩৯০ টাকা, অগ্রিম ৯০ টাকা। সুন্দরবন কুরিয়ারে অগ্রিম ফুল পেমেন্ট আর পিডিএফ নিতে ২০০ টাকা এবং পেমেন্টের এক মিনিটের মধ্যেই পিডিএফ পাবেন মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ই-মেইলে সেন্ড করা হবে।
বিকাশ পার্সোনাল/নগদ/রকেট নাম্বার, এরকম নানা চটকদার শিরোনামে পোস্ট করতো, এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত।
এমআইকে/এএইচ



