১১৬ আলেমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হচ্ছে না: দুদক সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২, ০১:৪৩ পিএম
১১৬ আলেমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হচ্ছে না: দুদক সচিব

সম্প্রতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ১১৬ জন আলেমের বিরুদ্ধে যে তালিকা জমা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মাহাবুব হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সচিব এই কথা জানান।

দুদক সচিব জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে সেটা সঠিক নয়। দুদক ধর্মীয় বক্তা বা আলেমদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মাহাবুব হোসেন জানান, সম্প্রতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দুই হাজার ২১৫ পাতার একটি ‘শ্বেতপত্র’ দুদকে দাখিল করে। শ্বেতপত্রটি পরীক্ষা করে সংক্ষিপ্তসার কমিশনে উপস্থাপনের জন্য দুদক একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে। এটা কোনো অনুসন্ধান কমিটি নয়।

সচিব বলেন, দুদক হটলাইন কিংবা সরাসরি পত্রযোগে কোনো অভিযোগ পেলে তা প্রথমে পরীক্ষা করে। তাতে অভিযোগটিতে দুর্নীতির উপাদান পাওয়া গেলেও তা দুদকের তফসিলভুক্ত হলেই অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয়। আলেমদের বিরুদ্ধে পাওয়া শ্বেতপত্রটির ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে। আগে যাচাই তারপর তফসিলভুক্ত হলে অনুসন্ধানে যাবে।

এর আগে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, ১১৬ আলেমের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি দাফতরিক চিঠি মঙ্গলবার তিন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। অনুসন্ধানের জন্য নিযুক্ত অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম ও উপপরিচালক মো. আহসানুল কবীর। দুদকের পরিচালক উত্তম কুমার মণ্ডল এ চিঠি পাঠান।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ১১ মে ‘মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গঠিত গণকমিশন’ ১১৬ আলেম ও ইসলামি বক্তার একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেয়। তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়ন এবং ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করা ও ধর্মের নামে ব্যবসার অভিযোগ আনে গণকমিশন। তারা ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে ইসলামপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। 

জেবি