নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে চূড়ান্ত নামের তালিকা প্রস্তুতের পর সেটি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ কম বলে জানানো হয়েছে। রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) মিটিং শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য জানিয়েছেন সার্চ কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
তিনি বলেন, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয় আছে। আমরা যখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চাইবো তখন কিন্তু করোনা পরীক্ষার প্রসঙ্গে আসবে। এজন্য আমরা সহসাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে পারবো না।
গত মিটিংয়ে ২০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল সেখান থেকে শর্ট করে ১২ থেকে ১৩ টি নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে সপ্তম মিটিং করা হবে। আমরা দশটি নাম চূড়ান্ত করতে পারিনি। বারো থেকে তের জনের নাম ঠিক করেছি। পরবর্তী মিটিংয়ে দশটি নাম চূড়ান্ত করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবো।
তিনি বলেন, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এসব নামের তালিকা পাঠাবো।
নাম প্রকাশ করবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আমরা নাম প্রকাশ করতে পারি না। মহামান্য রাষ্ট্ররপতি বললে নামগুলো প্রকাশ করবো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমরা নামের তালিকা পাঠাবো।
বিজ্ঞাপন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ আইন–২০২২ অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠনের ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করতে হবে। সে হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে নাম প্রস্তাবে সার্চ কমিটির সময় শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।
এর আগে ইসি গঠনে পরামর্শ নিতে গত সপ্তাহের শনি, রোব ও মঙ্গলবার মোট তিন দিনে চার দফায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৪৭ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করে সার্চ কমিটি।
ইসি গঠনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যক্তি পর্যায় থেকে প্রস্তাবিত ৩২২ জনের নাম গত সোমবার রাতে প্রকাশ করা হয়। তবে প্রস্তাবকারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। নামগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
স্বাধীনতার পর এবারই আইন অনুযায়ী প্রথম ইসি গঠিত হচ্ছে। এ জন্য গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর পর আইনানুযায়ী ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিকে নাম সুপারিশের জন্য সময় দেয়া হয়েছে ১৫ কার্যদিবস।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তিপর্যায় থেকে আসা প্রস্তাবের বাইরে নির্বাচন কমিশন গঠনে এই কমিটি নিজেরাও যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করতে পারবে। সব নামের মধ্য থেকে ১০ জনের নাম বাছাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার জন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।
ইসি গঠনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে এসেছে ১৩৬ জনের নাম। পেশাজীবী সংগঠন দিয়েছে ৪০টি নাম। ই-মেইলে এসেছে ৯৯ জনের নাম, আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রস্তাব করেছেন ৩৪ জন। এ ছাড়া বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ও অন্তত ২০ জনের নাম পাওয়া গেছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সার্চ কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসি গঠন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সর্বশেষ ইসির মেয়াদ গত সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে।
এআইএম/একেবি

