বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

আইনজীবীকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি, গ্রেফতার ৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৫, ১১:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

H
গ্রেফতার তিনজন। ছবি- ঢাকা মেইল

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে এক আইনজীবীকে অপহরণ করার পর খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা। শুক্রবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রবিন দাশ (৩৮), জনি মুস্তাকিম (২৩) ও শাহজালাল।


বিজ্ঞাপন


শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ তালেবুর রহমান। 

মুগদা থানা সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী আইনজীবী দীলিপ কুমার মল্লিক তার ছেলের ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রায় ৯ মাস ধরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকছেন। গত ৭ মে রাত দেড়টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরছিলেন। পথে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মোড়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জন তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে চোখ ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। 

সেখানে অপহরণকারীরা তাকে মারধর করে এবং ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা তাকে আরও মারধর করে এবং আটক রাখে। এ সময় তারা তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তার স্ত্রী হাসি রানী মৈত্র্যকে ফোন করে চাঁদা দাবি করে। 

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বিভিন্ন উৎস থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ৮ মে রাত আটটার দিকে মধ্যে বাগেরহাটের কচুয়া বাজারের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে অপহরণকারীদের বিকাশ নম্বরে পাঠান। টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা দীলিপের কাছ থেকে দুটি সাদা স্ট্যাম্পে টিপসই ও স্বাক্ষর নিয়ে ৯ মে রাত সাড়ে নয়টার দিকে একটি সিএনজিচালিত ট্যাক্সিতে তুলে দেয়। 


বিজ্ঞাপন


ট্যাক্সিচালক তাকে মুগদা বিশ্বরোডে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে দীপ্ত মল্লিক তার পিতা নিখোঁজের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

থানা সূত্র আরও জানায়, জিডির প্রেক্ষিতে যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এলাকা থেকে মো. শাহজালালকে এবং ডেমরা থানা পুলিশের সহযোগিতায় রবিন দাশ ও জনি মুস্তাকিমকে ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় ধস্তাধস্তিতে গ্রেফতারকৃরা আহত হলে তাদের মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

অপহরণের ঘটনাস্থল মুগদা এলাকায় হওয়ায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তাদের মুগদা থানায় হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী  দীলিপ কুমার মল্লিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুগদা থানায় একটি মামলা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ভুক্তভোগীকে অপহরণ করার পর খুনের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এমআইকে/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর