মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ঢাকা

১৩-১৫ জুনের টিকিটের জন্য হাহাকার

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৪, ০৫:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

১৩-১৫ জুনের টিকিটের জন্য হাহাকার

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র ছয় দিন বাকি। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে বাস-ট্রেনের টিকিটের চাহিদাও তত বাড়ছে। এর মধ্যে ১৩ থেকে ১৫ জুনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ গ্রামে যাওয়ার চিন্তা করলেও অনেকের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিট। বিশেষ করে ১৩-১৫ জুনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে টিকিট নামের ‘সোনার হরিণ’ পাচ্ছেন না। অনলাইন বা সরাসরি কাউন্টারে গিয়েও মিলছে না টিকিট। এই তিন দিনের টিকিট শেষ হয়েছে বলে বাস কাউন্টারগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সরাসরি গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কেউ কেউ টিকিট পাওয়ারও দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, কাউন্টারগুলোতে তেমন ভিড় নেই। কাউন্টারের লোকজন শুয়ে বসে আছেন। দুই একজন যাত্রী আসছেন টিকিট কেনার জন্য। তবে বেশিরভাগ লোকের চাহিদা ১৪-১৫ জুন। তবে এই তিন দিনের টিকিট দিতে পারছেন না কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন


imrul-3]তাদের দাবি, ১৩-১৪ ও ১৫ জুনের চাহিদা বেশি থাকায় ইতোমধ্যে এই তিন দিনের টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে। যে দু-একটি টিকিট বিক্রি করছেন সেগুলো অতিরিক্ত বাসের। তবে তা সংখ্যায় কম বলে বাস সংশ্লিষ্টদের দাবি।

সোহাগ পরিবহনের কর্মচারী নয়ন জানান, ‘তাদের আগামী ১৩-১৫ জুনের কোনো টিকিট নেই। সব টিকিট বুকিং হয়ে গেছে। ফলে তাদের কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। তবে প্রতিদিনের যাত্রী গন্তব্যে যাওয়ায় কাউন্টার খোলা রাখতে হয়েছে।’

নয়ন আরও জানেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। এছাড়া সেদিন গার্মেন্টসও ছুটি হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চাপ বাড়বে গাবতলী বাস টার্মিনালে। তবে আজ যাত্রী যাওয়া শুরু করেছে। আজ সকাল থেকে গ্রামে যারা ছুটছেন তাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও অভিভাবক।’

imrul-4গ্রীন সেন্টমার্টিন এক্সপ্রেসের কাউন্টারে থাকা জাহিদ জানান, তারা ঢাকা থেকে বরিশাল ও উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত বাস সেবা দিয়ে থাকেন। তাদের বেশিরভাগ বাস এসি। তবে কিছু ননএসিও রয়েছে। তারা সরাসরি কিছু বাড়তি টিকিট বিক্রি করছেন। তবে সেগুলো অতিরিক্ত বাসের।


বিজ্ঞাপন


বরিশাল যাওয়ার জন্য এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন ইমরান আহমেদ। কয়েকদিন ধরে অ্যাপসে টিকিট কাটার চেষ্টা করেও পাননি। সহজ ডটকম থেকে শুরু করে কোথাও টিকিট না পাওয়ায় এসেছেন গাবতলীতে।

ইমরান জানান, ‘আমি কয়েকদিন ধরে অনলাইনে টিকিট কাটার চেষ্টা করেও পাইনি। ফলে সরাসরি টার্মিনালে এসেছি। তবুও টিকিট পাচ্ছি না।’

কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা সব টিকিট বিক্রি করেছেন। এখন বিক্রি করছেন চালকের পাশের ইঞ্জিন কাভারের কিছু টিকিট। তাও কম সংখ্যক।

imrul-2সেবা গ্রীনলাইন পরিবহনের কাউন্টারের কর্মচারী সজিব টিকিট বিক্রির জন্য বসে আছেন। এ সময় পিরোজপুরের টিকিট চাইতে আসেন এক নারী। সজিব তাকে জানান, টিকিট আছে মাত্র একটি। তবে ভাড়া পড়বে ৮০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে একশ টাকা বাড়তি দাম চান তিনি।

টার্মিনালে টিকিট কেনার জন্য আসা কয়েকজন জানান, তারা ১৫ জুন রাতে গ্রামে যাবেন কিন্তু কোনো টিকিট পাচ্ছেন না। অনলাইনে তিনদিন ধরে চেষ্টা করেও পাননি। কেউ কেউ বেশি টাকা দিয়ে টিকিট পাওয়ার কথা জানান।

যাত্রীদের এমন দাবি পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা। কাউন্টারে থাকা কর্মীদের দাবি, যেকোনো বাস যাওয়ার সময় যাত্রী পায় কিন্তু আসার সময় ফাঁকা থাকে। তাই তেল ও স্টাফ খরচ তুলতেই কিছু টাকা বাড়তি ধরেন তারা।

এমআইকে/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর