যেকোনো সময় গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২, ০৯:২২ এএম
যেকোনো সময় গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা

প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়ানোসহ বেশকিছু ‘অজুহাত’ দেখিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো। সেই প্রস্তাবের ওপর গত ২১ থেকে ২৪ মার্চ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগে চার দিনের একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আবাসিকসহ সবধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। বিধান রয়েছে গণশুনানির পর ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। তবে গণশুনানির ফলাফলের জন্য ততোদিন অপেক্ষা করতে হবে না বলে আভাস দিয়েছে বিইআরসি। 

বিইআরসি সূত্র বলছে খুব শিগগীর গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। কারণ বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সেই প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানির জন্য আগামী ১৮ মে দিন ধার্য করেছে বিইআরসি। সে জন্য ১৮ মের আগেই গণশুনানির সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য কমিশনের ওপর চাপ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিইআরসির সদস্য মকবুল-ই-ইলাহি চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গ্যাসের প্রস্তাবিত দামের ওপর যে গণশুনানি হয়েছে সেটার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আমরাতো প্রস্তুত আছি। আমরা সরকারের কাছে একটা জিনিস জানতে চাইছি। সরকার ভর্তুকি দিবে কি না, দিলে কি পরিমাণে দিবে। এটা জেনেই আমরা ডিক্লারেশনটা দিতে চাই।’ 

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়বে কি স্থিতিশীল থাকবে তা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। কারণ গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে তেমন কোনো যৌক্তিকতা দেখাতে পারেনি কোম্পানিগুলো। তারপরেও দাম বাড়ানো নিয়ে একটা শঙ্কা কাজ করছে জনসাধারণের মাঝে। অনেকের অভিযোগ, এ ধরনের গণশুনানি হচ্ছে ‘দাম বাড়ানোর নাটক’। যত গণশুনানি হয়েছে দু-একটা ছাড়া সব ফলাফল কোম্পানিগুলোর পক্ষেই গেছে।

গ্যাস কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দাম ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ১০০ এবং দুই হাজার টাকা। সেখানে বিইআরসির কারিগরি কমিটি দুই কোম্পানির প্রস্তাবিত গ্যাসের দাম যাচাই-বাছাই করে গ্রাহকদের দুই চুলার গ্যাসের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৮০ টাকা এবং এক চুলার গ্যাসের দাম ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা করার সুপারিশ করে। এছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে মিটারভিত্তিক চুলার জন্য প্রতি ঘনমিটার ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা প্রস্তাব করা হয়। যার বর্তমান মূল্য ১২ টাকা ৬০ পয়সা। এ প্রস্তাবের বিপরীতে ভোক্তা পর্যায়ে মিটারভিত্তিক চুলার জন্য প্রতি ঘনমিটার ১৮ টাকা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি।

এ বিষয়ে সাধারণ নাগরিক সমাজের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গণশুনানি একটা নাটকের মতো। এই ধরনের গণশুনানিতে কখনোই দাম কমার রেকর্ড নাই। শুধু একবার ক্যাবের আহ্বানে শুনানি হয়েছিল, যেটার কোনো ফলাফল হয়নি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্যাস কোম্পানিগুলো প্রচুর মুনাফা করছে। সরকারকে উদ্বৃত্ত টাকা দিচ্ছে। উন্নয়ন কাজের জন্য গ্রাহকের পকেট থেকে এখনই গ্যাসের দামের সঙ্গে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের নামে টাকা কেটে রাখা হচ্ছে। এই অবস্থায় কোম্পানিগুলোর গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য।

বিষয়টি নিয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আসলে গণশুনানি আস্থাহীনতার শিকার। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এই ধরনের একটা উপলব্ধি বা অনাস্থা বিইআরসির ওপরে মানুষের জন্মেছে এবং সেটা তো অমূলক নয়।

তিনি আরও বলেন ‘গেল গণশুনিতে আমরা যে এতো করে চাপ সৃষ্টি করেছি, আইনি প্রক্রিয়ায় মূল্য নির্ধারণ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। যেগুলো সাস্টেইনেবল না, সেগুলোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। জবাবদিহিতার মুখোমুখি তারা হয়েছে। বিইআরসির কারিগরি কমিটি যেটা মূল্যায়ন করে নিয়েছে সেটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারপরেও অতীত ইতিহাস যা বলে, কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের ওপর গণশুনানি হয়েছে, কিন্তু দাম বৃদ্ধি হয়নি এমনটা সচরাচর হয় না। দুই-একবার শুধু ব্যতিক্রম হয়েছে। তা বাদে গণশুনানির অধিকাংশ ফল ভোক্তাদের পক্ষে আসে না। কোম্পানিগুলোর পক্ষেই যায়।’

তবে গেল শুনানির এক পর্যায়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেছিলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যম আয়ের লোকেরাও হিমশিম খাচ্ছে। আমরা যে পণ্যটির বিষয়ে শুনানি করছি, তার চেইন ইফেক্ট রয়েছে, কোনও প্রস্তাবকারী সেটি তুলে আনেননি। আমরা সামগ্রিক সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবো। এখন দেখার বিষয় কবে বিইআরসি তাদের সিদ্ধান্ত জানায়। ফলাফল কি ভোক্তাদের পক্ষে আসে, নাকি বরাবরের মতোই কোম্পানিগুলোর পক্ষেই যায়।

টিএই/এএস