বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়ে ফুটপাত দোকানিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ মে ২০২২, ০৯:৩১ পিএম
বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়ে ফুটপাত দোকানিদের

‘সন্ধ্যা অবধি বিক্রি ৮২০ টাকা। এর মধ্যে লাইনম্যান চাঁদা নিয়েছে ২০০ টাকা। লাইটের ৫০ টাকাসহ আরও একশ টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া চা-নাস্তার খরচ তো আছেই।’ ঠিক এভাবেই বলছিলেন রাজধানীর নিউমার্কেটের ফুটপাতের দোকানি শাকিল।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাতে এই দোকানির সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এসময় তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে দোকান বন্ধ কয়েক দিন। আর কত বসে থাকা যায়। ব্যবসা হোক আর না হোক- দোকান খুললেই খরচ। বেচাবিক্রি কয় টাকা করতে পেরেছি সে খবর কেউেই নেয় না। এই চাঁদা সেই চাঁদা।’

বৃ্ষ্টিতে তাদের দুর্ভোগ বাড়ে জানিয়ে শাকিল বলেন, ‘ক্রেতার খুব একটা চাপ নেই। বৃষ্টি দিনে অনেকেই বের হতে চায় না। আমাদেরও কষ্ট হয় মালামাল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে। এর মধ্যে দুই-চারবার পুলিশ উঠিয়ে দেওয়ার ঝামেলা। অন্য সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে ব্যবসা। বাসায় বসে থাকলেওতো আর পেট চলে না।’

f2

স্বাভাবিক সময়ের এক বেলায় কত টাকা বিক্রি হয় জানতে চাইলে এই দোকানি বলেন, ‘আল্লা চাইলে কোনোদিন আট-দশ হাজারও হয়। কোনোদিন পাঁচ হাজার। তবে এখন খরচ তোলাই মুশকিল হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিন ব্যবসার সময়ে বৃষ্টি।’

সরেজমিনে নিউমার্কেটের আশপাশে ঘুরে দেখা যায়, অন্য সময়ের তুলনায় হকার কম। আকাশের ভাব বুঝে হকারদের সাজিয়ে রাখছেন পসরা। যেখানে ক্রেত শুধু সামর্থ্যহীনরাই নয় কিনলেও এখন মধ্যবিত্তদের ভরসার জায়গা হয়েছে ফুটপাত। মধ্যশ্রেণির মানুষ ফুটপাতকেই বেছে নিয়েছেন। যদিও নেই ক্রেতাদের তেমন উপস্থিত।

শুধু শাকিলই নয়, নিউমার্কেটের দোকানিদের প্রায় সবার অভিযোগ, এমন সমস্যা মাথায় নিয়েই ব্যবসা করছেন তারা। যদিও ফুটপাতের পথ বন্ধ করে ব্যবসা করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় অন্য পথচারীদের। তা স্বীকার করেন ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, তারাও মানুষকে কষ্ট দিতে চান না। আলাদা হকার্স মার্কেট তৈরি করলে এই সমস্যা থাকবে না বলে মনে করেন তারা।

f3

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মতিঝিল জনতা ব্যাংকের সামনে, ফকিরাপুল এলাকা, দৈনিক বাংলা মোড়, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হকার্স সমিতি মার্কেট ও গুলিস্তান মোড়ের চারপাশের ফুটপাত, মতিঝিল শাপলা চত্বরের চারদিক, মৌচাক মার্কেটের সামনে, রামপুরা বাজারের সামনে, গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন ফুটপাত, বঙ্গবাজার, নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়কের ফুটপাত, গাউছিয়া, ঢাকা কলেজের সামনে, গাউছিয়া, ইডেন কলেজের সামনে ও মিরপুর এলাকায় মিরপুর-১, মিরপুর-১০ সহ মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বসে ফুটপাত। স্থানগুলোতে ভালো বেচাকেনা চলে। যদিও টানা বৃষ্টির প্রভাবে হকারদের উপস্থিত কমেছে।

ডিএইচডি/জেবি