সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

কৌশলে পিন হাতিয়ে বিকাশ-নগদ থেকে টাকা তুলে নিতো তারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

কৌশলে পিন হাতিয়ে বিকাশ-নগদ থেকে টাকা তুলে নিতো তারা

সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানের নামে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারিত করে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ইসমাইল মাতুব্বর (২১), ইব্রাহীম মাতুব্বর (২৭), মানিক ওরফে মতিউর রহমান (১৯) ও সিনবাদ হোসেন (২৪)। 


বিজ্ঞাপন


বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদ উদ্দিন। 

তিনি জানান, এ চক্রের মূলহোতা ইসমাইল মাতুব্বর। তার নেতৃত্বে পরষ্পর যোগসাজসে চক্রটি প্রায় দুই বছর ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। নিরিবিলি স্থান হিসেবে তারা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা বেছে নেয় যাতে নির্বিঘ্নে প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তারা প্রথমে উপবৃত্তির ওয়েবসাইট থেকে উপবৃত্তির তালিকা সংগ্রহ করতো। পরে ইসমাইল প্রথমে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ক্লোন করে বিকাশ/নগদ একাউন্ট খোলা ভিকটিমদের বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে নিজেকে শিক্ষা অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানের কথা বলে প্রলুব্ধ করতো। এরপর বিশেষ মোবাইল অ্যাপসের সহায়তায় ভুক্তভোগীদের মোবাইলে ফোন করে সিরিয়াল নম্বরের কথা বলে অথবা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিকাশ/নগদের ওটিপি সংগ্রহ করতো। সেই ওটিপির মাধ্যমে তারা ভুক্তভোগীদের বিকাশ/নগদ একাউন্ট হ্যাক করে অন্য একাউন্টে স্থানান্তর করার মাধ্যমে ভিকটিমদের টাকা আত্মসাৎ করতো। একইভাবে তারা একাধিক ভুক্তভোগীর বিকাশ/নগদ একাউন্টের পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রাখতো এবং একটি মোবাইলে একাধিক বিকাশ/নগদ অ্যাপস ডাউনলোড করে একাউন্টে লগইন করে রাখতো। অতঃপর উক্ত একাউন্টে কোনো টাকা প্রবেশ করামাত্র ইসমাইল মোবাইলে নটিফিকেশনের মাধ্যমে তা জানতে পারে এবং সাথে সাথে সেই টাকা তার অন্যান্য সহযোগী ইব্রাহীম, মানিক ও সিনবাদের একাউন্টে স্থানান্তর করে।

আরও পড়ুন

‘ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় কুকি চিনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’

তিনি আরও জানান,  সিনবাদ এ টাকা তাদের আশপাশের অথবা দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাশআউট করে ইসমাইলের কাছে নিয়ে আসতো। এ টাকা তারা সবাই মিলে ভাগ করে নিতো। চক্রটি এ ধরে এক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা ও উপবৃত্তি প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০/২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। চক্রটির সবাই স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আশায় এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


র্যাব জানায়, উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নামে প্রতারক চক্রটি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় বসবাসকারী ইসতাহাদ উদ্দিন সোহানকে (১৯) গত ২২ মার্চ কল দিয়ে তার নাম্বারে উপবৃত্তির টাকা পাঠাবে বলে কৌশলে তার বিকাশের পিন নাম্বার নিয়ে নেয়। পরে তার একাউন্ট থেকে ৩৮ হাজার ২৫৮ টাকা একাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলে। এরপর তিনি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া গত ২৪/০৩/২৪ তারিখ কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক শিক্ষাথীর কাছ একই প্রতারক চক্র ২০ হাজার ৪০০ টাকা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা এলাকার লোকমান হোসেন (৪৪) এর কাছ থেকে তার ছেলের নামে উপবৃত্তির কথা বলে ১৬ হাজার ৩০০ টাকা প্রতারণা করে। 

এমআইকে/এমএইচএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর