বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

চোখের সামনে পুড়ে অঙ্গার হলো লোকটি!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৫১ এএম

শেয়ার করুন:

চোখের সামনে পুড়ে অঙ্গার হলো লোকটি!

তখনও পুরো বগিতে আগুন ছড়ায়নি। তবে অন্য পাশে দাউদাউ করে জ্বলছে। ট্রেনের জানালা দিয়ে মাথা বের করে হাত দিয়ে বাঁচার আকুতি করছিলেন তিনি। পাশেই আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে। তার ডাকে সাড়া দিয়ে এক যুবক ওঠে তাকে বের করার চেষ্টাও করেন। কিন্তু কিছুতেই তাকে বের করা যাচ্ছে না। শেষমেষ সেই যুবক জানালার পাশের আগুনের আঁচে আর সহ্য করত পারছিলেন না। দ্রুত নেমে যান। এরপরই ফায়ারের কর্মীরা সেই আটকে পড়া ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে জানালা দিয়ে পানি ছিটাতে থাকেন। কিন্তু সেই ব্যক্তিকে আর বাঁচানো গেল না। চোখের সামনেই ছটফট করতে করতে মারা গেলেন তিনি।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সেপ্রেস ট্রেনে লাগা আগুনে এভাবেই একজনের মারা যাওয়ার রোমহর্ষক বর্ণনা দিচ্ছিলেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপে করুণ সেই দৃশ্য দেখা গেছে।

সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জ্বলন্ত ট্রেনেরে একটি বগির জানালা দিয়ে এক ব্যক্তি দুই হাত বের করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু কেউ তাকে বের করতে পারেনি। কারণ ওই সময় কোনোভাবে জানালাটিও খুলছিল না। ফলে সেখানেই তিনি পুড়ে অঙ্গার হয়ে মারা গেলেন। এমন দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে দেখে চোখের পানি ফেলেন অনেকে।  অনেকে বলেছেন, এ কেমন নৃশংসতা ! এমন নির্মমভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মারে কেউ?

এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজন আল্লাহ আল্লাহ বলে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছিলেন। কেউ কেউ বলছিলেন, এই পুড়ে গেল, এই পুড়ে গেল। পানি মারেন। কেউ বলে ওঠেন, লোকটাকে বের করে আনেন। কিন্তু শেষমেষ যখন তাকে কোনোভাবেই বাঁচানো গেল না অনেকে এ দৃশ্য দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। 

সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রেনে আগুনে দগ্ধ দুজনকে তিনি বের করে আনতে দেখেছেন। আগুন কয়েকটি বগিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী যে যার মতো করে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৯টা ৫ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয় ট্রেনটিতে। পরে ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে সাতটি ইউনিট নিয়ে হাজির হয়। তখনো দাউ দাউ করে জ্বলছিল আগুন। পরে আরও একটি ইউনিট বাড়ানো হয়। আটটি ইউনিট নিয়ে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। পরে একে একে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ারের কর্মীরা। 

জানা গেছে, বেনাপোল এক্সপ্রেসটিতে ১৫৪ জন যাত্রী ছিল। ট্রেনটি শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এর মধ্যে ঢাকার যাত্রী ছিল ৪৯ জন। রাত নয়টার দিকে ট্রেনটি কমলাপুরে ঢোকার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এমআইকে/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর