শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা মন্দা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

মো. ইলিয়াস
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২২, ০৪:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা মন্দা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

আসন্ন ঈদযাত্রায় রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন  মালিকরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটি কম হলে মানুষ দ্রুত আসা-যাওয়ার জন্য এসব গাড়ির খোঁজ করেন। কিন্তু এবার ঈদে দীর্ঘ ছুটি হওয়ার কারণে মানুষের বাড়ি যাওয়ার চাপ অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়া দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির ফলে অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে বিকল্প চিন্তা করছেন সাধারণ মানুষ। 

প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা রমরমা থাকলেও এবার অবস্থা নাজুক। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন এখন পর্যন্ত ঈদ উপলক্ষে কোনো গাড়ি বুকিং হয়নি। এতে হতাশ ব্যবসায়ীরা। অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও করেছেন । 

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য ঘরমুখো মানুষের বুকিংয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার হাবিব রেন্ট-এ-কার এর কর্ণধার তরিকুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বুকিং হয়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অবস্থা খুবই খারাপ; আমাদের নিজেদের চলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। গাড়ি ভাড়া নেই। এতে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা ঘাটতি দিতে হচ্ছে। কারণ রোজার মধ্যে মানুষ তেমন বাহিরে বের হচ্ছে না; এ কারণে গাড়ি ভাড়াও হচ্ছে না। 

তিনি বলেন, ঈদের পূর্বে দু-একদিন ভাড়া হতে পারে, কিন্তু এখন যেই ভাড়া বলা হচ্ছে তাতে গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। মানুষের ইনকাম সোর্স কমে গেছে বলেই গাড়ি ব্যবহার কম করছে। আগের বছর বাসা এবং অফিসে আমার ইফতার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখন আমাকে খরচ কমিয়ে মাত্র দুই শত টাকার মধ্যে শেষ করতে হচ্ছে। এখন বেলা সাড়ে তিনটা বাজে এর মধ্যে ইনকাম হয়েছে মাত্র দুইশত ৮০ টাকা। অফিস ভাড়া আছে ড্রাইভার বিল আছে, ম্যানেজার আছে, ইলেকট্রনিক বিল আছে, আমি যে মালিক আমারটা বাদই দিলাম। আমি যে প্রতিষ্ঠানের মালিক আমি যে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এটা শুধু নাম মাত্র অন্য কিছু না। সামনে থেকে এই ব্যবসা আর করবো না। আগে গাড়ির কাগজ করতে লাগতো দুই থেকে তিন হাজার টাকা আর এখন সেটা করতে লাগে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। আগে আমাদের একটি গাড়ি কিনতে লাগত দেড় থেকে চার লাখের মতো। আর এখন একটি গাড়ি কিনতে দরকার হয় ৪০ লাখ টাকা। সব মিলে ভালো নেই; এবার ঈদ করতে আমার খুবই কষ্ট হবে। যা ইনকাম হবে তা দিয়ে স্টাফ বিদায় করতেও কষ্ট হয়ে যাবে।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের গাড়ি বুকিং সম্পর্কে জানতে চাইলে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া খান রেন্ট-এ-কার এর কর্ণধার মো. ইব্রাহিম ঢাকা মেইলকে বলেন, এখন পর্যন্ত ঈদ উপলক্ষে কোন বুকিং হয়নি। মূলত ২৫ রোজার পরে বলা যাবে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। ঈদকে সামনে রেখে কেমন আশা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন , এখনো তেমন কিছু দেখতে পাচ্ছি না। ভালো কিছু দেখলে বলতে পারতাম। 

ঢাকার জিরো পয়েন্ট ও পুরানা পল্টন মোড়ের মাঝামাঝি মুক্তাঙ্গনে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস নিয়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। কথা হয় সজিব নামে একজন চালকের সাথে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বুকিং হয়নি। গতবছর করোনা লকডাউন থাকার কারণে গণপরিবহন বন্ধ ছিল; এতে করে কার মাইক্রোবাসের চাহিদা বেশি ছিল। কিন্তু এ বছর বিধি নিষেধ না থাকার কারণে এবং ঈদের ছুটি বেশিদিন হওয়াতে মাইক্রোবাসের তেমন চাহিদা নেই। এছাড়া সকল কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ হিসাব-নিকাশ করে খরচ করছে। তাই ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত খরচ কমাতে আস্তে আস্তে পরিবারের লোকজন বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। সব মিলিয়ে অবস্থা ভালো না। 


বিজ্ঞাপন


রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজের পাশে ৩০-৪০টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস নিয়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। আশপাশের মানুষজন গাড়ি ভাড়ার প্রয়োজন হলে এখানে এসে গাড়ি ভাড়া করে। আবার কোনো চালকের যাত্রী প্রয়োজন হলে এখানে এসে অপেক্ষা করলেই যাত্রী মিলে যায়। এখানে একাধিক চালকের সাথে কথা বলে জানা যায় ঈদকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত কোনো গাড়ি বুকিং হয়নি। 

আব্দুল হান্নান নামে একজন চালক বলেন, প্রতি বছরই ঈদে প্রাইভেট গাড়ির ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকে। সেই তুলনায় এবার অবস্থা বেশি ভাল নয়। ঈদকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত কোনো গাড়ি বুকিং হয়নি। 

কারণ হচ্ছে এবার ঈদে লম্বা ছুটি তাই মানুষের বাড়িতে যেতে তাড়াহুড়া নেই। খরচ কমাতে সকলেই বাসে করে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করবে। গত দুই বছর করোনার কারণে বিধি নিষেধ ছিল এ কারণে প্রাইভেট গাড়ির উপর একটু বেশি চাপ ছিল। প্রতিবছরই ২৮ ও ২৯ রোজায় একটু চাপ থাকে সেটা ২৫ রোজার পর বোঝা যাবে যে কি অবস্থা।

car

আরেকজন চালক মোশাররফ হোসেন বলেন, এখনো কোনো বুকিং হয়নি কিন্তু প্রতিবছরই ঈদের আগের দু-একদিন একটু চাপ থাকে। কিন্তু এবার দীর্ঘ ছুটি হওয়ার কারণে চাপটা একটু কম মনে হচ্ছে। কারণ সকলে খরচ কমানোর জন্য বাসে যাতায়াত করবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে এর প্রভাবটা সব জায়গায় পড়েছে। অন্য ঈদের সময় আমাদের ব্যবসা খুব ভালো থাকে। কিন্তু এবার আমাদের ব্যবসা ভালো না। 

এমই/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর