রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আঞ্চলিক যোগাযোগে ভূমিকা রাখবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

Elevated Expressway
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) কর্তৃক অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত। সংগৃহীত ছবি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক উদ্বোধন হলেও পুরোটা চালু হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ, অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সুফল হলে অতি দ্রুত প্রকল্পের এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত প্রকল্পের পুরোটা চালু করতে হবে। তাহলে উত্তরাসহ টঙ্গী, গাজীপুর, বিমানবন্দর ও পূর্বাচলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ দ্রুততর হবে।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) কর্তৃক অনলাইনে আয়োজিত সমসাময়িক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণী এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


তারা বলেন, ঢাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের দ্রুত যাতায়াতে ভূমিকা পালন করবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। তবে এ ধরনের এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে ঢাকার যানজট অনেক কমে যাবে, এ আশাবাদের বাস্তবতা নেই। বরং পুরোপুরি চালু হলে এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পগুলোর আশেপাশে যানজট আরও বাড়তে পারে।

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য প্রধানত ডিজাইন করা হয়নি, তদুপরি এই এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ে যানজট নিরসনে বিভিন্ন ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে। অথচ গণপরিবহনের উন্নয়ন, বাস-সার্ভিস ও কমিউটার ট্রেন নেটওয়ার্ক নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কাজ করা হয়নি। ফলে নগর পরিবহন টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে না।


বিজ্ঞাপন


অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক উদ্বোধন ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার বৈষম্যমূলক চিত্রকে স্পষ্ট করে তুলেছে। যা সামাজিক অসন্তোষের জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি উন্নয়নের ন্যায্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে যেন ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ লেন রেললাইন প্রকল্প কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আয়োজক সংস্থা আইপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপযোগিতা সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করতে সিটি বাস সার্ভিসের জন্যও ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজাইন সংশোধন করা ছাড়াও বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ফলে বর্তমানে চালু হওয়া আংশিক অংশে ফার্মগেট-এয়ারপোর্ট সরাসরি বাস সার্ভিস ও মিনি বাস সার্ভিস চালু করার পাশাপাশি পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রাবাড়ী-এয়ারপোর্ট/উত্তরা বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে আইপিড। সেই সঙ্গে টোল আদায়ে অটোমেশন পদ্ধতির ব্যবহারের সাথে সাথে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির গতিবেগে নজরদারির ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

অন্যদের মধ্যে আইপিডির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, আমাদের পরিবহন ও যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ প্রকল্প ও উদ্যোগই গণমুখী নয়। ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পসমূহকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা সমতলের রাস্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার চরম অবহেলা করেছি, যার উদাহরণ হচ্ছে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তার ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থা। এর দায় পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পে উঠার ও নামার ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা দরকার, যেন এই পয়েন্টগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অনুষ্ঠানে আইপিডির পরিচালক পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, মেগা প্রকল্প, পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় কমানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন, নতুবা এ ধরনের প্রকল্পের অর্থনৈতিক উপযোগিতা থাকবে না। ব্যক্তিগত গাড়িকে নয়, বরং বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে গণপরিবহনে প্রাধান্য দিতে হবে।

একই কথা জানিয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ নুরুল হাসান বলেন, আমাদের পরিবহন সংশ্লিষ্ট অনেক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ নয়। প্রকৃত চাহিদা নয়, বরং অনেকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আগ্রহের ভিত্তিতে অনেক পরিবহন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। যা মানুষ ও শহরের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে।

 

এছাড়াও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. আফসানা হক বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শহরের যানজট কমাবে- এ ধরনের আশাবাদ করার বস্তুনিষ্ঠতা নেই। এক্সপ্রেসওয়েটি যদি সার্কুলার রোডের এলাইনমেন্টে ডিজাইন করা হতো তাহলে শহরের উপর চাপ কমতো বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, এই ধরনের প্রকল্পের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হলে সেটা জনকল্যাণে কাজে আসবে।

এছাড়া ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর পরিবহন পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অভীষ্ট টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়া সম্ভবপর হবে না।

ডিএইচডি/আইএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর