রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে প্রান্তসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব। এসময় তারা নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে।
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল-মঈন জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়ায় একটি স্কুলের নির্মাণাধীন সাইটে চোর সন্দেহে আকাশ নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগীর ফুফু বাদী হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন; যার মামলা নং-৩৯। এ ঘটনায় মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে প্রান্ত (২৫), ফিরোজ (১৮) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫) নামের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় তারা হত্যার বর্ণনা দিয়েছে।
র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ভুক্তভোগী ও তার বন্ধুরা মিলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি স্কুলের নির্মাণাধীন সাইটে প্রবেশ করে। এসময় নির্মাণাধীন সাইটের শ্রমিকরা তাদেরকে ধাওয়া করলে ভুক্তভোগীর বন্ধুরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ভুক্তভোগীকে নির্মাণ শ্রমিকরা আটক করে তাদের থাকার জায়গায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেম এর নির্দেশে ভুক্তভোগীকে লোহার রড চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত পা বেঁধে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে গ্রেফতারকৃতরা লাঠি, লোহার রড ও স্ট্যাম্প দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। ভুক্তভোগীকে সারারাত পৈশাচিক ও নির্মমভাবে লাঠি, লোহার রড ও স্ট্যাম্প দিয়ে ব্যাপক মারধর করায় ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। পরবর্তীতে গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রেফতারকৃতরা ভুক্তভোগীর ফুফুকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ফুফু ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যায় এবং সকাল ৮টা ৫ মিনিটে ভুক্তভোগী মৃত্যুবরণ করেন। ভুক্তভোগীর মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরে গ্রেফতারকৃতরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নির্মাণাধীন সাইট থেকে পালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেম ওই স্কুলের নির্মাণাধীন সাইটের সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োজিত ছিল। তার নেতৃত্বেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। সে তার সহযোগীসহ ভুক্তভোগীকে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে নির্যাতন করে এবং মোবাইলে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সে ভুক্তভোগীর মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরে নির্মাণাধীন সাইট থেকে পালিয়ে মগবাজার ও রমনা এলাকায় আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত ফিরোজ পেশায় একজন শ্রমিক। সে ঘটনার সময় গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেম এর নির্দেশে ভুক্তভোগীকে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে। পরবর্তীতে সে ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পরে নির্মাণাধীন সাইট থেকে পালিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে আত্মগোপন করে এবং হেমায়েতপুরে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত মোস্তাফিজুর পেশায় একজন শ্রমিক। এছাড়াও সে বর্ণিত নির্মাণাধীন সাইটের ফোরম্যান হিসেবে নিয়োজিত ছিল। সে হত্যাকান্ডে গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেমসহ অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে বাঁশের সাথে ঝুঁলিয়ে নির্যাতন করে। পরবর্তীতে সে ভুক্তভোগীর মৃত্যুর তথ্য পেয়ে নির্মাণাধীন সাইট থেকে পালিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে এবং আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র্যাব তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কেআর/এমএইচএম




