রোববার, ২৬ মে, ২০২৪, ঢাকা

‘নজরুল চিরতরুণ, যাকে বার্ধক্য গ্রাস করতে পারেনি’

তৃপ্তি সেন
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৩, ০৩:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘নজরুল চিরতরুণ, যাকে বার্ধক্য গ্রাস করতে পারেনি’

সকাল থেকে দুপুরের অর্ধেকটা সময় সমুদ্রে দাপাদাপি করে কেটে গেলো। বিকেলে যাওয়া হলো ইনানী বিচে। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষ হতে বেশ রাত হয়ে গেল। রুমে ফিরে যে যার ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত। এরমধ্যে ইন্টারকম বেজে উঠল। রিসিভার তুলতেই কানে বাজল এক ভরাট কণ্ঠ- 

‘আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল করে দেখা অনুখন,
 আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তার কাঁকন-চুড়ির কন-কন’
 
নজরুলকে ভালো লাগার শুরুটা এখান থেকে না। বরং আরও আগে থেকেই। কিন্তু ওই সময়ের ওই আবৃত্তিটুকু নজরুলকে প্রেমের কবি হিসেবে আরও বেশি মহিমান্বিত করেছিল। এক কবিতাতেই প্রেম আর দ্রোহ। একই সঙ্গে বিস্ময়কর। তাই ‘বিদ্রোহী’ তাঁর অমর সৃষ্টি।


বিজ্ঞাপন


যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি সরকারি একটা ক্যালেন্ডার পেয়েছিলাম যেখানে লেখা ছিল সেই সাম্যের বাণী যা আমাকে বারেবারে অনুপ্রাণিত করেছে -

‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, 
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’

এই সাম্যের বাণী এমন করে কে ই বা প্রচার করতো, যদিবা নজরুল না আসতো? 

নজরুল অসাম্প্রদায়িক কবি। তার যেমন গজল রয়েছে তেমনি রয়েছে শ্যামা সঙ্গীত। ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস পড়তে পড়তে মেজবৌ আর প্যাকালের বাস্তবতা যেমন দেখেছি তেমনি দেখেছি খ্রিস্টান মিশনারীদের নিজ ধর্মে আনার কৌশল। বাস্তবতার এমন সুন্দর নিরূপণ বুঝি নজরুলেই সম্ভব।


বিজ্ঞাপন


প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার স্বল্পতা থাকলেও সুশিক্ষার কোনো অভাব তার ছিল না। তাই তো তিনি ভগবানের সাথেও আপোষ করেননি। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন ‘আমি বিদ্রোহী ভৃগু ভগবান বুকে এঁকে দিই পদচিহ্ন।’

নজরুলকে জানার শেষ নেই। নজরুল জানিয়েছেন সেই অমোঘ বাণী- ‘মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।’ আমাদের সমাজের মর্মমূল ধরে নাড়া দিয়েছেন তিনি। ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন জোগানোর জন্য ভজনালয়ের তালা ভাঙতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে মানুষের চেয়ে বড় কেউ নেই। তাই বলেছেন- ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’ 

সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে এনেছেন তিনি তাঁর লেখায়। কোথাও এতটুকু ছাড় দেননি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। তিনি চিরন্তন প্রেমের কবি আমার কাছে। এই প্রেম মানব প্রেম এই প্রেম সৃষ্টির প্রতি। এই প্রেম নবজীবনের প্রতি। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে এই প্রেম মত্ত।

নজরুল চিরতরুণ, যাকে বার্ধক্য গ্রাস করতে পারেনি। যৌবনে তিনি বার্ধক্যকে আঁকড়ে ধরেননি। মানুষের মনের যৌবনই বড় সেকথা বলতে ভোলেননি। তাই নজরুলের এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি আরেক হাতে রণ তুর্য।

লেখক: সহকারী শিক্ষক (বাংলা), বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট।

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর