জাবি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ: প্রাণের টানে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:৪১ পিএম
জাবি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ: প্রাণের টানে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে

বেশ কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। কয়েক বছর পর ভূগোল ও পরিবেশ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন পুনর্মিলনী আয়োজনের তারিখ ঘোষণা পর থেকে এক ধরনের আনন্দের জোয়ারে ভাসছিলেন ভূগোলবিদরা। কারণ দীর্ঘ দিন পর সবার সাথে সবার সরাসরি দেখা হবে। যদিও ফেসবুকের কল্যাণে যোগাযোগ থাকে কিন্তু নিজ ক্যাম্পাসে বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়রদের সাথে স্মৃতি রোমন্থন করার মজাই আলাদা। 

গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার সমবয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয় যে চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন তার মধ্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ অন্যতম। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এই বিভাগের কয়েক হাজার গ্রাজুয়েট বের হয়েছেন যাদের অনেকেই দেশ বিদেশে সম্মানজনক চাকরিতে কর্মরত আছেন। চাকরি ও পারিবারিক ব্যস্ততার মধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে তাঁরা এসেছিলেন প্রাণের টানে।

ju

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। সবসময় জাবিয়ানদের প্রতি এক অন্য ধরনের টান অনুভব করি। দীর্ঘদিন পর অনেকের সাথে দেখা হবে জেনেই সকালে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্য রওনা হই। ক্যাফেটেরিয়ার পাশে অবস্থিত বুথ থেকে উপহার সামগ্রী সংগ্রহ করে কিছু সময় অপেক্ষা করতেই একে একে হাজির হতে থাকেন আমার ব্যাচের বন্ধু শামিম, দুলাল, আমান, হাবিব, অভি, হাফিজ। বেশ কয়েক বছর পর বন্ধুদের সাথে দেখা হয়। আমরা পায়ে হেটে ও রিকশাতে ক্যাম্পাস ঘুরতে থাকি। কখনো বা বটতলা, ট্রান্সপোর্ট, শহীদ মিনারে বসে কতশত পুরাতন স্মৃতি স্মরণ করি। 

দুপুরের পর মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হই আমি। পুরো মুক্তমঞ্চ, ক্যাফেটেরিয়া, টিএসসি ভূগোলবিদদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। পাশেই মুঠোফোনের ক্যামেরায় বন্দি হতে ব্যস্ত ডিবিসি টিভির সংবাদ উপস্থাপিকা সাথী আপুর সাথে দেখা হয়। আমিও স্মৃতি ধরে রাখলাম নিজের ফোনে। এরপর রাখি আপু, অলক ভাই ও টিনার আপুর সাথে অল্প সময় আড্ডা দিই, সেলফি তুলি। 

ju

ময়মনসিংহ রিজিওন ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল সঞ্জিত চন্দ্র পন্ডিত ভাই, আরডিএ বগুড়ার ডিরেক্টর মেহেদি ভাই, বেসরকারি ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রান্ত ভাই ও নাহিদা আপুর সাথে অল্প সময়ের জন্য দেখা হয়। পঞ্চগড় থেকে আগত কাজি এন্ড কাজি টি স্টেট এর সহকারী ব্যবস্থাপক কবির ভাই ও যমুনা টিভির সাংবাদিক আলমগীর কবির ভাইয়ের সাথে বেশ প্রাণবন্ত আড্ডা দিয়েছি।

এর মধ্যেই আমার শিক্ষক প্রান্তিক স্যার ও সাইকা ম্যামের সাথে সালাম বিনিময় হয়। অনুষ্ঠানে যেয়ে আমি মতিন ভাইকে খুঁজতে থাকি। বিকালে ক্যাফেটেরিয়ার পাশে ভাইয়ের সাথে দেখা হয়। মতিন ভাই খুলনাতে ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত আছেন। ভাইয়ের সম্পর্কে একটি কথা বেশ প্রচলন আছে- ‘কেও উপকার নিতে না চাইলেও মতিন জোর করে তার উপকার করে’। 

ju

খুলনাতে জাবিয়ানদের একত্রিত করতে তিনি সবসময় অগ্রগামী ভূমিকা রাখেন। এরপর মতিন ভাই ও তার বন্ধুদের সাথে ফুসকা ও জুস খেতে খেতে গল্প চলতে থাকে। কখন যে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে বুঝতেই পারিনি। এরপর মুক্তমঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঞ্চের পাশে আসাদ ভাই ও আরজুনা আপুর সাথে অনেক দিন পর দেখা হয়। ঢাকাতে ফেরার তাড়া থাকায় বিদায় নিতে হয় আমাকে। বিদায় বেলায় দেখা হয় জবির শিক্ষক মালেক ভাইয়ের সাথে। ভাই পুনর্মিলন উৎযাপন কমিটির সেক্রেটারি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে বেশ পরিশ্রম করেছে কমিটির সবাই। 

দীর্ঘদিন পর প্রিয় মুখগুলো দেখে মনের মধ্যে আনন্দের ধারা প্রবাহিত হয়েছিল যা এখনো বহমান। বিভাগের ক্লাস শুরুর প্রথম দিকে আমরা শুনেছিলাম এই বিভাগের আর একটি নাম ভূগোল ও পরিবার। সত্যিই এটি আমাদের কাছে একটি পরিবারের মতো। হয়তো কখনো দেখা হয়নি, কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা হয়েছে কিন্তু সবাইকে একসাথে পাওয়ার অনুভূতি কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যাবে না। 

অ্যালামনাইয়ের সদস্যরা পুনর্মিলনীর সাথে বড় ফান্ড গঠন করে বিভাগের উন্নয়নে কাজ করতে পারে। কিছু দিন আগে সরকার প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইকে শক্তিশালী করতে তাগিদ দিয়েছেন যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের উন্নয়ন নিজেরাই করতে পারে। অদূরভবিষ্যতে শিক্ষা, গবেষণা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে। প্রত্যাশা রইল এই ধারা শুরু হবে জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের হাত ধরে।

লেখক: মো. শাহিন রেজা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এনএম