বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন: প্রতিভাময় তরুণদের একত্রিত করার মঞ্চ

মো. শাহিন রেজা
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৩:৫৮ পিএম
বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন: প্রতিভাময় তরুণদের একত্রিত করার মঞ্চ

১১ আগস্ট খুব সকালে মিরপুর থেকে গুলশান ২ এ ইন্ডিয়া হাউজের উদ্দেশ্য রওনা হই। রাস্তায় গাড়ির চাপ কম থাকায় অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাই। বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন ২০২২ এর অডিশনে অংশ নেওয়া আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল। ই-মেইলে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ তৈরি হয়। ফলে আমাদের দেখা হওয়ার আগেই অনেকের সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে এক ধরনের পরিচয় হয়ে যায়। 

এই অডিশনের মূল লক্ষ্য ১০০ জন তরুণকে নির্বাচিত করা যারা বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে ভারতের অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প-সংস্কৃতি এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ পাবে। মূলত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশেষ করে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি চর্চা, মিডিয়া, সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তরুণেরা প্রাধান্য পাবে। যাদের বয়স হতে হবে ২১-৩৫ বছরের মধ্যে।

youthইন্ডিয়া হাউজে পৌঁছে প্রথম পরিচয় হয় ফাহমিদুর রহমানের সঙ্গে যিনি বিইউপিতে বিবিএ করছেন। হবিগঞ্জ থেকে আগত নাহিদা খান সুরমির সঙ্গে পরিচিত হয়ে জানতে পারি তিনি হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে আবৃত্তি প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেসঙ্গে উপস্থাপনা করেন বিভিন্ন প্রোগ্রামের।

সিলেট থেকে আগত নাজাত আহমেদ, সংকর দত্তসহ আরও কয়েক জনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আড্ডার মধ্যে বুঝতে পারলাম একে একে তরুণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সকাল ১০টার পর রেজিস্ট্রেশন সেরে আমরা রুমে প্রবেশ করি। শুরু হলো ফর্মাল পরিচয় পর্ব। 

youthএই পর্বে সবার মন কেড়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত এক শিক্ষার্থী। সবাই যখন ফরমাল পোশাকে এসেছেন, তখন তিনি বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করে লুঙ্গি পরে এসেছিলেন। পরিচয় পর্ব শেষে অভিনেতা আরেফিন শুভ ও খেলোয়াড় জাহানারা বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন আমাদের সঙ্গে। 

এর কিছুক্ষণ পর ইন্টারভিউ পর্ব শুরু হয়। দোতলাতে ইন্টারভিউ চলতে থাকে আর নিচের রুমে কবিতা আবৃত্তি, নাচ, গান ও কৌতুকের পারফরম্যান্স দর্শকদের আনন্দের খোরাক জোগায়। আমাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কেউ আইটি ও গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে কাজ করছেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে আমারা ফটোসেশান করতে থাকি।

youthআমাদের খুলনা বিভাগ থেকে অনেকই এসেছেন অডিশনে। এছাড়াও ঢাকা ও সিলেট বিভাগ থেকে ইয়ুথদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ১১ তারিখ ছিল অডিশনের শেষ দিন। এর আগে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের অডিশনে অংশ নিয়েছিলেন অনেক তরুণ। 

আমি নিজে খুলনা বিভাগের হওয়ায় খুলনা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা ও মেহেরপুরের অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। যার মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিলা ফারজানা যিনি একজন তরুণ উদ্যোক্তা। এছাড়াও খুলনা খেকে আগত সেলিম হাসান, মাসুম বিল্লাহ, মেহেরপুরের সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয়। যশোর থেকে আগত বায়েজিদ বেশ প্রণখুলে আড্ডা দিলেন আমাদের সঙ্গে। সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন জুনিয়রের সঙ্গে পরিচয় হয়ে। যাদের একজন শাহরিন হায়দার পড়ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে অন্যজন আইনে। 

youthসময় গড়িয়ে যায়, আমরা উপভোগ করতে থাকি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এক পর্যায়ে আমার ডাক পড়ে ইন্টারভিউয়ে। আমি বিভিন্ন পত্রিকাতে লেখালেখি করি শুনতেই বোর্ড মেম্বার আমার কাছে ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে জানতে চাইলেন। আমি সাধ্যমত সুন্দরভাবে আমার দেশকে উপস্থাপন করলাম।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আমাদের পাশে হওয়ায় অনেক কিছুতে মিল রয়েছে আমাদের মধ্যে। তবে রাজ্যভেদে ভাষা ও সংস্কৃতি ভিন্নতা আছে ভারতে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি বিনিময়ের সুযোগ পাবে। ইন্টারভিউ শেষে দেখা লালনের দেশ থেকে আগত তাসনিয়া জামানের সঙ্গে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যিনি ‘ক্যাম্পাস তারকা’ হিসবে পরিচিত । ২০২০ সালে ফোক রিয়েলিটি শো ‘বাংলার গায়েন’ এ সেরা ৩০ জনের একজন নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষে ইমন হাসনের সাথে পরিচয় পর্ব শেষ করে বাড়ির পথে রওনা হলাম।

youthসেদিন সারাদিন ইন্ডিয়া হাউজে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রতিভা দেখে মনে হয়েছে এ দেশের তরুণেরা অসম্ভব মেধাবী। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলা, সামাজিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন মানুষের সাথে মেশা মনেই নতুন কিছু জানা। 

আগে বলা হতো নলেজ ইজ পাওয়ার। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কমিউনিকেশন ইজ পাওয়ার। এই অডিশন পর্ব আমাদের মাঝে নতুন নতুন ভাবনা তৈরিতে সহায়তা করেছে। মানুষের চিন্তা ও কর্মের যে কত বৈচিত্র্যতা আছে তা মানুষের সাথে না মিশলে অজানা থেকে যাবে। নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিতে এই অডিশন অপরিসীম ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এনএম