সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কন্যাশিশুদের চরম মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার বুলিং বা অনলাইন হয়রানির কারণে কন্যাশিশুরা মানসিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সাইবার বুলিংয়ের শিকার শিশুদের তীব্র মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভোগার ঝুঁকি সাধারণ মেয়েদের তুলনায় চার গুণ বেশি। কন্যাশিশুরা যেভাবে সাইবার বুলিং, বাস্তব জীবনের সামাজিক চাপ ও বডি শেমিংয়ের শিকার হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে অভিভাবক হিসেবে আপনার করণীয় কী, তা জেনে নিন-
কনটেন্ট তৈরির মনস্তাত্ত্বিক চাপ
_20261011_140041431.jpg)
সাইবার বুলিং এর সঙ্গে শিশুর ওপর বর্তমানে কনটেন্ট তৈরির মনস্তাত্ত্বিক চাপও যুক্ত হয়েছে। অজ্ঞতাবশত কিংবা সস্তা ভিউ ও আর্থিক লাভের আশায় অনেক অভিভাবকই এখন তাদের কন্যা শিশুদের টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে কনটেন্ট তৈরিতে জোরপূর্বক ব্যবহার করছেন।
আরও পড়ুন: আজকের কন্যাশিশুরা আগামীর ভবিষ্যত
তাদের এই লাইক, কমেন্ট আর রিচের নেশার শিকার হয়ে কন্যারা তাদের স্বাভাবিক শৈশব হারাচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে তীব্র ‘ডিজিটাল ক্লান্তি’ এবং প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বাস্তব জীবনে তাদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, বিকাশ এবং মানসিক প্রশান্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্ন হচ্ছে।
কমেন্টবক্সের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এসব রিলস বা ছবির কমেন্টবক্সে একশ্রেণীর মানুষ অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, নেতিবাচক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ সাইবার আচরণ কোমলমতি শিশুদের মনে গভীর মানসিক ক্ষত ও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।
আরও পড়ুন: কেমন পৃথিবী চায় আমাদের কন্যারা?
বাস্তব জীবনের সামাজিক চাপ ও বডি শেমিং
শুধু অনলাইনেই নয়, বাস্তব জীবনেও কন্যাশিশুদের প্রতিনিয়ত গায়ের রঙ, শারীরিক গঠন কিংবা পড়াশোনার ফলাফল নিয়ে বডি শেমিং ও সামাজিক বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। এসব নেতিবাচক আচরণ শিশুকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমায় ফেলে দেয়। এসব তাদের স্বাভাবিক মেধার বিকাশ ও পড়াশোনায় চরম বাধা সৃষ্টি করে।

এছাড়া অনেক পরিবারে কন্যাসন্তানদের একা চলার স্বাধীনতা বা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয় না, যা তাদের মনে তীব্র হীনমন্যতার জন্ম দেয়।
সংকট মোকাবিলায় করণীয়
কন্যাশিশুর মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সবার আগে পরিবারকে প্রথম সুরক্ষাকবচ হতে হবে। স্রোতে গা না ভাসিয়ে বাবা-মাকে বুঝতে হবে যে সন্তান কনটেন্ট তৈরি বা উপার্জনের কোনো হাতিয়ার নয়। শিশুদের স্ক্রিন টাইম সীমিত করতে হবে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে তাদের ওপর সঠিক নজরদারি রাখতে হবে।

সাইবার বুলিং বা যেকোনো হীনমন্যতার শিকার হলে শিশুকে কোনোভাবেই বকাঝকা বা দোষারোপ করা যাবে না। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি চেপে না রেখে বরং বন্ধুর মতো তার পাশে আপনাকে দাঁড়াতে হবে।
সমস্যা গুরুতর হলে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল বা সরকারি আইনি ও নিরাপত্তা সেবার সাহায্য নিতে হবে।
পাশাপাশি স্কুল-কলেজে এবং পারিবারিক পরিমণ্ডলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে করে কন্যাশিশুরা যেকোনো সংকটে ঘরে ও বাইরে নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারবে।
এএ




