শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ভুক্তভোগী নিজেই কেন টক্সিক আচরণ করেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ভুক্তভোগী নিজেই কেন টক্সিক হয়?
ভুক্তভোগী নিজেই কেন টক্সিক হয়?

টক্সিক সম্পর্ক বলতে এমন সম্পর্ককে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তির আচরণ, কথাবার্তা বা মানসিকতা অপর ব্যক্তির মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সুখ নষ্টের কারণ হয়। এসব আচরণ ধীরে ধীরে অপর ব্যক্তির জীবনকে বিষিয়ে তুলে। তবে একটি টক্সিক সম্পর্ক শুধু ভোক্তভুগীর জীবনকেই নষ্ট করে না, বরং তার সঙ্গে জড়ানো অন্যান্য মানুষগুলোর জীবনেও প্রভাব ফেলে। কেননা, যে মানুষটি টক্সিক সম্পর্কে আছেন বা একটি টক্সিক পরিবেশে বসবাস করছেন ধীরে ধীরে তার মধ্যে টক্সিক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। মনস্তত্ত্বের ভাষায় একে বলা হয় “সারভাইভাল মেকানিজম” বা টিকে থাকার লড়াই। এ লড়াইয়ের এক পর্যায়ে তারা নিজেরাও অন্যের জন্য টক্সিক বা ক্ষতিকর হয়ে ওঠেন। আপনার কাছের মানুষদের কারো মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা দেখলে কী কী পদক্ষেপ নেবেন জেনে নিন-

Picture

যে কারণে ভুক্তভোগী নিজেই টক্সিক আচরণ করেন

আক্রমণাত্মক মোড: দীর্ঘদিন টক্সিক পরিবেশে থাকা মানুষগুলোকে প্রতিনিয়ত অন্যায়, অবহেলা বা মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসময় তার অবচেতন মন নিজেকে রক্ষার জন্য  “ডিফেন্সিভ মেকানিজম” হিসেবে আক্রমণাত্মক মোডে থাকেন। তখন কেউ সাধারণ কথা বললেও তিনি মনে করেন তাকে ছোট করে সে কথাটি বলা হয়েছে।

আচরণের পুনরাবৃত্তি: সারাক্ষণ পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সঙ্গী বা কর্মক্ষেত্রে চিৎকার-চেঁচামেচি বা পলিটিক্স দেখতে দেখতে এসব আচরণকে মানুষ স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করে তিনি। ফলে নিজেও অন্যদের সঙ্গে একই আচরণ করতে শুরু করেন।

Picture

ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ: একজনের দেওয়া মনোকষ্ট দীর্ঘদিন ভেতরে জমিয়ে রাখার ফলে হতাশায় ভোগেন তারা। সুযোগ পেলে জমানো সেই ক্ষোভ নির্দোষ মানুষের উপর ঝেড়ে ফেলেন।

ভুক্তভোগী  টক্সিক হলে আপনার করণীয়

আরও পড়ুন: টক্সিক সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার উপায়

সহযোগিতার হাত বাড়াবেন: একজন ভুক্তভোগী অধিকাংশ সময়েই আমাদের কাছের মানুষ হোন। তাই তাকে মানসিক সাপোর্ট দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। শুরুতেই সম্পর্ক নষ্ট করার চিন্তা না করে সম্পর্কটি স্বাভাবিক করতে সব ধরনের চেষ্টা চালাতে হবে। তবে আপনার সে চেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ হলে বুঝতে হবে এখন সীমারেখা টানার সময়।

সম্পর্কের সীমারেখা টানা: অনেকেই মনে করেন, ‘সে তো পরিস্থিতির শিকার, তাকে আমি স্নেহ, মায়া-মমতা, ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে বদলে ফেলব।’ আর এই চিন্তা থেকেই অনেকে বৃথা চেষ্টা করতে যেয়ে নিজের মানসিক অবস্থার বারোটা বাজিয়ে ফেলেন।

Picture

দীর্ঘদিন টক্সিক মানুষের সঙ্গে থাকলে দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা ও ট্রমা দেখা দেয় এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায়। তাই সময় থাকতেই আপনাকে সম্পর্কের সীমারেখা টানতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, আপনি প্রফেশনাল কোনো থেরাপিস্ট নন।

আরও পড়ুন: ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে আছেন? বেরিয়ে আসার উপায় জানুন 

নিজের মানসিক ভারসাম্য রক্ষা: আপনাকে যদি সারাক্ষণই অন্যের “ইমোশনাল বার্ডেন” বা মানসিক অবসাদ টেনে বেড়াতে হলে নিজের জন্য আপনার কাছে আর কোনো সময় ও ইতিবাচক শক্তি অবশিষ্ট থাকবে না। এই বোঝা টানতে টানতে একটা পর্যায়ে আপনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলবেন।

Picture

টক্সিসিটির চেইন ভাঙা: আপনি যখন সে মানুষটির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবেন তখন তিনি নিজেদের আচরণ নিয়ে ভাবার সময় ও সুযোগ পাবে। হয়তো তিনি বুঝতে পারবেন সমস্যার মূল কোনটা। 

এগুলোর কোনোটিই স্বার্থপর সিদ্ধান্ত নয় বরং নিজেকে রক্ষার প্রচেষ্টা। মনে রাখবেন, আপনি নিজে ভালো থাকলেই শুধু অন্যদের ভালো রাখতে পারবেন।

এএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর