শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আপনিও কি প্যাসেঞ্জার পেরেন্টের শিকার? জেনে নিন পরিত্রাণের উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আপনিও কি প্যাসেঞ্জার পেরেন্টের শিকার? জেনে নিন পরিত্রানের উপায়
আপনিও কি প্যাসেঞ্জার পেরেন্টের শিকার?

সন্তান লালন-পালনে বাবা-মায়ের ভূমিকার কোনো তুলনা নেই। সন্তানের বাবা-মা দুজনেরই আদর, ভালোবাসা ও যত্নের প্রয়োজন আছে। তবে অধিকাংশ পরিবারেই দেখা যায় সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব একা একজন অভিভাবকের কাধেঁ। সন্তান লালন-পালনে অপরজন কোনো দায়িত্বই পালন করেন না, শুধু উপস্থিত থাকেন। এই অবস্থাকে বলা হয় প্যাসেঞ্জার পেরেন্ট বা একপেশে অভিভাবকত্ব। এ অবস্থা সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টের পাশাপাশি সন্তানের উপর বিরূপ মানসিক প্রভাব ফেলে। আপনিও এমন অভিভাবক? তাহলে জেনে নিন এর থেকে পরিত্রাণের উপায়-

sick_baby

প্যাসেঞ্জার পেরেন্ট (Passenger Parent): অনেক পরিবারেই দেখা যায়, একজন অভিভাবক সন্তানের প্রায় সব দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নেন। আর অপরজন সন্তানের দৈনন্দিন জীবন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মাথা ঘামান না। এই ধরনের অভিভাবকত্বকেই বলা হয় প্যাসেঞ্জার পেরেন্ট। 

প্যাসেঞ্জার পেরেন্ট ধারণাটি এসেছে 'Passanger' বা যাত্রী শব্দটি থেকে। কোনো গাড়িতে যাত্রীর কাজ শুধু বসে থাকা। আর চালকের কাজ গাড়ি চালিয়ে সেটি গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া। প্যাসেঞ্জার প্যারেন্টের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তিনি গাড়ি চালকের মতো সব দায়িত্ব একা পালন করেন আর সঙ্গী যাত্রীর মতো সংসারে শুধু উপস্থিত থাকেন।

যেভাবে বুঝবেন আপনি প্যাসেঞ্জার পেরেন্টিংয়ের শিকার

kids

সাধারণত একদিনে সংসারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয় না। অনেক দিনের অভ্যাসের ফলে ধীরে ধীরে এই অবস্থা তৈরি হয়। দিন দিন যখন সন্তানের স্কুল, পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, অসুস্থতার সময় সেবা ও যত্নের মতো সব কাজ একা হাতে সামলান, তখন অপরজন এসব নিয়ে ভাবেনই না। হয়তো তিনি সাহায্য করতে প্রস্তুত তবে নিজ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাস নেই।

আরও পড়ুন: শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সহজ ৬ টিপস

সংসারে এই অবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে দায়িত্ব নেওয়া সঙ্গীর মধ্যে ক্লান্তি চলে আসতে পারে। তার মনে হতে পারে, ‘আমাকেই কেন সবকিছু সামলাতে হবে?’

woman-working

এই চিন্তা থেকেই তার মনে বিরক্তি, অভিমান বা ক্ষোভ জন্মাতে পার বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ধীরে ধীরে সঙ্গীর সঙ্গে তার কথাবার্তা ও সম্পর্কের ধরন বদলে যেতে শুরু করে। তৈরি হয় দূরত্ব। এর প্রভাব সন্তানের উপরও পড়তে পারো। কেননা, শিশুর মন বুঝতে পারে কে তাদের বেশি ভালোবাসেন, তাদের সঙ্গে সময় কাটান, অসুস্থ হলে পাশে থাকেন।

আরও পড়ুন: ৫ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে থাকে শিশুরা, কম ঘুমে স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব

পরিত্রাণের উপায়

একদিনে সবকিছু বদলে ফেলা সম্ভব না। ধীরে ধীরে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, রাতে গল্প শোনানো, একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া, পড়াশোনার সময় পাশে বসার মতো ছোট কোনও দায়িত্ব দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।

male_parent

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দায়িত্ব নিয়েই বসে থাকা যাবে না। সন্তানের সঙ্গে ভালো সময় কাটানোও জরুরি। তার সঙ্গে খেলাধুলা করা, গল্প করা, মন খারাপের সময় তার পাশে থাকা, তাকে ভরসা ও আশ্বাস দেওয়ার কাজগুলো করুন। কেননা, সন্তানের সঙ্গে আপনার কাটানো মুহুর্তগুলোর তার জন্য সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।

প্রথম দিকে এই কাজগুলো করতে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে। সন্তানেরও হয়তো মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। তাই, হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর