শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘৩০-এর আগেই মারা যাবেন’-সেই নারীই কমালেন ৩৪৩ পাউন্ড, হলেন মা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘৩০-এর আগেই মারা যাবেন’—সেই নারীই কমালেন ৩৪৩ পাউন্ড, হলেন মা
‘৩০-এর আগেই মারা যাবেন’—সেই নারীই কমালেন ৩৪৩ পাউন্ড, হলেন মা

জীবন মাঝেমধ্যে আমাদের এমন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় যার কারণে নাটকীয় মোড় আসে। যেকোনো একটি ঘটনা জীবন বদলে দেয়। ইংল্যান্ডের লরার জীবনেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ওজন নিয়ে ছোটবেলা থেকে সংগ্রাম করা মেয়েটিকে একসময় চিকিৎসক মৃত্যুর আগাম বার্তাই দিয়ে দেন একপ্রকার। তাতেও তার হেলদোল দেখা যায়নি। কিন্তু একটি গর্ভপাত বদলে দেয় তার জীবন নিয়ে ভাবনা। কী হয়েছে লরার জীবনে? 

ছোটবেলায় স্কুলের সবচেয়ে মোটা মেয়ে ছিল লরা। ওজন কমানোর জন্য কম চেষ্টা করেনি। বছরের পর বছর চলেছে ডায়েট আর ওজন কমানোর নানা আয়োজন। কিন্তু লাভ হয়নি বিন্দুমাত্র। বরং সময়ের সঙ্গে ওজন আরও বেড়েছে। 

ওজন কমাতে চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছিলেন লরা। তারা সতর্ক করে কঠিন বার্তা দিয়েছিলেন, ‘এভাবে চললে ৩০ বছর বয়সের আগেই মারা যেতে পারেন।’তবে এমন কথাও বদলাতে পারেনি তার জীবনযাপন। কারণ নিজের শরীর নিয়ে তখনও তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ওজনকে তেমন বড় কোনো সমস্যা বলেই মনে করতেন না লরা। 

woman_1

ছোটবেলা থেকেই অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে লড়াই করছিলেন ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের লরা বুদ্রেভিসিয়েনে। ১১ বছর বয়সে তার ওজন ছিল প্রায় ১৫৪ পাউন্ড। বয়সের সঙ্গে তা বাড়তেই থাকে। একসময় গিয়ে ওজনের কাটা গিয়ে পৌঁছায় ৫২৫ পাউন্ডে। 

অতিরিক্ত ওজন লরার দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। এমনকি ১৯ বছর বয়সে একটি বিনোদন পার্কে গিয়ে একটি রাইডে উঠেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। তার শরীরের ওজন এতই বেশি ছিল যার কারণে রাইডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো বন্ধ করা যাচ্ছিল না।

একসময় বসে খাওয়াও লরার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বিছানায় শুয়েই খাবার খেতে হতো তাকে। এতকিছুর পরেও নিজের ওজন নিয়ে খুব একটা অস্বস্তিতে ছিলেন না লরা। তার ভাষায়, তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। নিজের জীবনে তখনও তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন। তাই চিকিৎসকদের সতর্কতাও তার মনে তেমন প্রভাব ফেলেনি।

woman_2

কিন্তু ২২ বছর বয়সে এসে বদলে যায় লরার জীবন। সেসময় গর্ভপাতের শিকার হন লরা। চিকিৎসকরা তাকে জানান, অতিরিক্ত ওজন তার মা হওয়ার পথে বাধা তৈরি করতে পারে। ছোটবেলা থেকেই মা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন লরা। তাই গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা তার জীবনে এক গভীর ধাক্কা হয়ে আসে।

লরা বলেন, ‘আমি সবসময় একটি পরিবার চেয়েছিলাম। গর্ভপাতের পরই প্রথম অনুভব করলাম, এবার আমাকে কিছু করতেই হবে। এর আগে অন্য সব সতর্কতা যেন আমার কানে পৌঁছাতই না।’

woman_3

এরপর নিজের জীবন বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন লরা। ২০২০ সালের অক্টোবরে তার গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম এক বছরেই প্রায় ২৮০ পাউন্ড ওজন কমে যায় লরার। মা ও হন তিনি। দুই সন্তানের জন্ম দেন। এরপর ওজন কমার গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়। পরে ওজন কমানোর ইনজেকশনও ব্যবহার করেন তিনি। সব মিলিয়ে তার ওজন কমেছে প্রায় ৩৪৩ পাউন্ড।

একসময় ৫২৫ পাউন্ড ওজনের লরার বর্তমান ওজন প্রায় ১৮২ পাউন্ড। পোশাকের মাপও কমে দাঁড়িয়েছে ১০-এ। তবে তার কাছে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আয়নায় নিজের বদলে যাওয়া চেহারা নয়, বরং তার দুই সন্তান।

এখন সন্তানদের জন্য আরও সুস্থ থাকতে চান লরা। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চামড়া অপসারণের অস্ত্রোপচার করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তার। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের জন্য লরার পরামর্শ— শুরু করতে হবে আজই।

woman_4

তার কথায়, একটি খারাপ দিন মানেই খারাপ জীবন নয়। ওজন যেমন এক দিনে বাড়ে না, তেমনি এক দিনেই কমেও না। এজন্য প্রয়োজন সময়, ধৈর্য এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস।

লরার গল্প তাই শুধু ওজন কমানোর গল্প নয়। এটি এমন এক উপলব্ধির কাহিনি যা আমাদের বলে দেয়, কখনও কখনও মানুষকে বদলাতে চিকিৎসকের সতর্কতা যথেষ্ট হয় না। জীবনের কোনো গভীর অভিজ্ঞতা, কোনো হারানোর বেদনা বা প্রিয় কাউকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই হয়ে উঠতে পারে পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারণ।

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর