২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে পৃথিবীব্যাপী চলছে চরম উত্তেজনা। মাঠে লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকে প্রিয় দলের জার্সিগুলোর দিকেও। ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনার ভক্তদের কাছে তাদের দলের জার্সি সবসময়ই বিশেষ আবেগের জায়গা। এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও তার দল এখন পর্যন্ত প্রধানত দুই ধরনের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন। তবে এই জার্সি নির্বাচন কোনো দৈব ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও কৌশল।
আর্জেন্টিনার প্রধান বা অফিসিয়াল জার্সি মূলত দুইটি। একটি হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী হোম জার্সি (Home Kit) এবং অন্যটি অ্যাওয়ে জার্সি (Away Kit)।

হোম জার্সি (Home Kit): এটি সাধারণত আকাশী ও সাদা রঙের আইকনিক ডোরাকাটা নকশার হয়ে থাকে।

অ্যাওয়ে জার্সি (Away Kit): এটি সাধারণত গাঢ় নীল বা অন্য কোনো বিকল্প রঙের হয়ে থাকে।
কোন খেলায় আর্জেন্টিনা কোন জার্সি পরবে, তা মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-
১. হোম জার্সি ব্যবহারের অগ্রাধিকার: আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সিটিকে সবসময় প্রাধান্য দেয়। ফিফা বা টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, শিডিউলে যে দলকে 'হোম টিম' হিসেবে ধরা হয়, তারা সাধারণত তাদের প্রধান জার্সি পরার অগ্রাধিকার পায়। আর্জেন্টিনা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তাদের এই প্রিয় জার্সিটি পরে মাঠে নামতে পছন্দ করে।

২. জার্সি সংঘর্ষ বা 'ক্ল্যাশ' (Clash of Colors): যদি প্রতিপক্ষ দলের জার্সির রঙের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হোম জার্সির রঙের মিল থাকে এবং তাতে খেলোয়াড়দের আলাদা করতে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখনই তারা বাধ্য হয়ে অ্যাওয়ে জার্সি (Away Kit) পরে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিপক্ষ যদি হালকা রঙের জার্সি পরে যা আকাশী-সাদা রঙের সাথে মিশে যায়, তবে আর্জেন্টিনা তাদের গাঢ় নীল জার্সিটি ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলের জার্সিতে ৫টি স্টার আর্জেন্টিনার জার্সিতে কেন তিনটি?
৩. ফিফার সিদ্ধান্ত: বড় টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচের আগে ফিফার ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানেই চূড়ান্ত হয় কোন দল কোন রঙের জার্সি পরবে। মাঠের আলোর প্রতিফলন ও ক্যামেরার ফুটেজের স্বচ্ছতার বিষয়টিও এখানে গুরুত্ব পায়।
আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনার জার্সিতে AFA লেখা কেন?
৪. সেন্টিমেন্ট বা আবেগ: ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা দল তাদের হোম জার্সির ব্যাপারে ভীষণ আবেগপ্রবণ। বড় কোনো নক-আউট ম্যাচে তারা সাধারণত তাদের সৌভাগ্যের প্রতীক আকাশী-সাদা জার্সিটিই বেছে নিতে চায়। তবে অতীতে কিছু ম্যাচে বিশেষ অভিজ্ঞতার (যেমন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনাল) কারণে অনেক সময় জার্সি বদলানোর সাহসী সিদ্ধান্তও দেখা গেছে।
এজেড




