দীর্ঘ ৪ বছরের অপেক্ষা শেষে ফের শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। উৎসবে মেতেছে বিশ্ববাসী। পছন্দের দলের পতাকা, জার্সিতে সাজছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে ডিজিটাল যুগে ফুটবলের উত্তেজনা এখন আর মাঠের গ্যালারি, টিভি সেটের সামনে সীমাবদ্ধ নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আলোচনা, ডিজিটাল ঝগড়া, উন্মাদনা, নাচ-গান। ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন ছেলে-বুড়ো সবাই।
বিভিন্ন ফুটবলারদের গোল উদযাপনের বিশেষ কিছু অভিব্যক্তি বা অঙ্গভঙ্গি থাকে। কেউ গোল দিয়ে আকাশে চুমু ছুঁড়ে দেন, কেউবা হাঁটু গেড়ে বসেন। কেউ জিভ বের করে দেখান আবার কেউ হাত ঘুরিয়ে বিশেষ কায়দা করেন। প্রিয় খেলোয়াড়দের গোল উদযাপনের বিশেষ অঙ্গভঙ্গি কিংবা স্বাক্ষরধর্মী অভিব্যক্তি অনুকরণ করে ভিডিও বানানোর নতুন এক ট্রেন্ড চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে টিকটক, ফেসবুক রিলস ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে এই ধরনের ভিডিও লাখো দর্শকের মনোযোগ কাড়ছে।
বিজ্ঞাপন

বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের 'সেলিব্রেশন', বিশেষ হাতের ইশারা—সবই এখন ভক্তদের ভিডিও কনটেন্টের অংশ। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীরা কখনো একা, কখনো নিজেদের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসব অঙ্গভঙ্গি নকল করে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করছেন। অনেকেই আবার ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে নিজেদের প্রিয় খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতিও তুলে ধরছেন।
মূলত খেলাধুলার প্রতি আবেগ আর তারকাদের সঙ্গে একধরনের মানসিক সংযোগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এসব ভিডিও বানাচ্ছেন অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমও এ ধরনের স্বল্পদৈর্ঘ্যের বিনোদনমূলক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওগুলো লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। মুহূর্তেই হচ্ছে ভাইরাল।
_20260613_120626455.jpg)
বিজ্ঞাপন
শুধু সাধারণ দর্শক নয়, বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া সংগঠন ও ক্লাবগুলোও এই ট্রেন্ডকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা সমর্থকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। সবাই তা লুফেও নিচ্ছেন। পছন্দের দলের জার্সি গায়ে, গালে-চোখে পতাকার সাজে প্রিয় খেলোয়াড়দের অনুকরণ করছেন। এতে খেলোয়াড় ও ভক্তদের দূরত্বও কমছে।
আসলে খেলাধুলা এখন আর শুধু প্রতিযোগিতার নাম নয়; এটি বিনোদন, সংস্কৃতি ও ডিজিটাল অংশগ্রহণেরও অংশ হয়ে উঠেছে। আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ হয়ে উঠেছে প্রিয় খেলোয়াড়দের অঙ্গভঙ্গি নিয়ে তৈরি হওয়া ভাইরাল ভিডিওগুলো।
এনএম




