শীতকালে গলা ব্যথা বা খুশখুশ করা খুব স্বাভাবিক বিষয় মনে হলেও গরমে এমন সমস্যায় অনেকেই অবাক হন। প্রচণ্ড রোদে ঘুরে আসার পর বরফ শীতল পানীয় পান করলে কিংবা এসির ঠান্ডায় বেশিক্ষণ থাকলে গলা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসির তাপমাত্রা খুব বেশি কমিয়ে রাখলে বা মুখ খুলে ঘুমালে মুখগহ্বর শুকিয়ে যায়, যা থেকেও গলার অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এই ধরনের প্রাথমিক সমস্যায় ঘরোয়া কিছু উপায়ের সাহায্য নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব।
লবণ পানি দিয়ে গার্গল
বিজ্ঞাপন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গার্গল করা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বাজারে পাওয়া যায় এমন কোনো অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল মাউথওয়াশ গরম পানিতে মিশিয়েও কুলকুচি করতে পারেন। এতে গলার খুশখুশানি ভাব দ্রুত কমে।
ভেষজ চা ও মসলা
আদা দিয়ে ফোটানো চা গলা ব্যথার উপশমে দারুণ কাজ করে। পাশাপাশি গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, আদা ও তুলসী পাতা পানিতে ফুটিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন। এই গরম পানীয়ের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে গলার অস্বস্তি অনেকটা কমে যায়।

বিজ্ঞাপন
লবঙ্গ বা আদা মুখে রাখা
গলা বেশি খুশখুশ করলে মুখে লবঙ্গ বা শুকনো আদা রাখতে পারেন। লবঙ্গ ও আদাতে রয়েছে শক্তিশালী ভেষজ গুণ এবং অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। এগুলো চিবিয়ে রস খেলে ধীরে ধীরে গলার অস্বস্তি ও ব্যথা কমে আসে।
আরও পড়ুন: খালি পেটে ফল খেলে কি ডায়াবেটিস বেড়ে যায়?
পর্যাপ্ত পানি পান ও লেবুর ব্যবহার
মুখ ও গলা শুকিয়ে গেলে গলার কষ্ট বাড়ে। তাই সারাদিন প্রচুর পরিমাণে হালকা গরম পানি পান করা জরুরি। হালকা গরম পানিতে পাতিলেবুর রস মিশিয়েও দিনে একবার পান করতে পারেন। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা খালি পেটে লেবুর পানি এড়িয়ে চলবেন।
গরম পানির ভাপ নেওয়া
গলা ব্যথার সঙ্গে মাথা ভার হয়ে থাকলে ফুটন্ত গরম পানির ভাপ নেওয়া খুব উপকারী। গরম জলের যে ভাপ বেরোয় তা নাক বা মুখ দিয়ে ভেতরে নিলে গলার প্রদাহ কমে এবং মাথা হালকা অনুভব হয়। নিয়মিত এই নিয়মগুলো মেনে চললে গরমে হওয়া গলা ব্যথার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এজেড




