রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ক্যাম্পাসে প্রথম পা

যে ১০ ভুল এড়িয়ে চললে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হবে সুন্দর

সাদমান ত্বকী
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

যে ১০ ভুল এড়িয়ে চললে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হবে সুন্দর
যে ১০ ভুল এড়িয়ে চললে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হবে সুন্দর (ছবিটি এআই দ্বারা নির্মিত)

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর অনেকেই একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে কঠিন পাহাড়টা বুঝি পার হওয়া গেল। কিন্তু ক্যাম্পাসে পা রাখার কয়েক দিনের মধ্যেই বোঝা যায়, আসল যাত্রা তো সবে শুরু। নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, নতুন পাওয়া স্বাধীনতা আর নতুন দায়িত্ব। সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে প্রথম সেমিস্টারের উচ্ছ্বাসে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন। 

মজার বিষয় হলো, এই ভুলগুলো কমবেশি সবার জীবনেই ঘটে। চলুন দেখে নিই, প্রথম বর্ষে পা দিয়েই শিক্ষার্থীরা সাধারণত কী কী ভুল করে থাকেন- 


বিজ্ঞাপন


১. শুরু থেকেই ক্লাসকে হালকাভাবে নেওয়া

স্কুল বা কলেজে একটা কড়া নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বাধ্যবাধকতা অনেকটাই কম থাকে। তাই অনেকেই ভাবেন, ক্লাসটা আজ থাক, কালকেরটা করব, বা পরীক্ষার আগে ঠিকই সব পড়ে নেব। এই ভাবতে ভাবতে হঠাৎ একদিন দেখা যায়, কোর্সের অর্ধেকের বেশি শেষ হয়ে গেছে। তখন সিলেবাসের পাহাড় দেখে চোখে সর্ষে ফুল দেখতে হয়।

varsity_2

২. শুধু নিজের বিভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ক্লাসরুম আর পাঠ্যবইয়ের জায়গা নয়। এটি একটা বিশাল দুনিয়া। অনেকেই শুধু নিজের ব্যাচ আর বিভাগের বন্ধুদের গণ্ডিতে আটকে থাকেন। অথচ বিভিন্ন বিভাগের নানা রকম মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ এখানেই সবচেয়ে বেশি। অন্য বিভাগের মানুষের সঙ্গে পরিচয় আপনার ভাবনার জগৎকে প্রসারিত করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করবে।

৩. সময় ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব না দেওয়া

ক্যাম্পাস জীবনে স্বাধীনতা অনেক বেড়ে যায়। তবে সেই সঙ্গে বাড়ে দায়িত্বও। কখন ক্লাস করবেন, কখন আড্ডা দেবেন আর কখন নিজের কাজগুলো সারবেন, তার একটা রুটিন থাকা জরুরি। সময়মতো সবকিছু সামলানো না শিখলে সেমিস্টারের শেষে গিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি হয়।

৪. সিনিয়রদের থেকে দূরে থাকা

র‍্যাগিংয়ের ভয়ে বা অহেতুক সংকোচে অনেকেই সিনিয়র ভাইয়া বা আপুদের এড়িয়ে চলেন। অথচ সব সিনিয়র মোটেও ভয়ংকর নন। বরং ক্যাম্পাস জীবনে তারাই হতে পারেন আপনার সবচেয়ে ভালো গাইড। কোন কোর্সে কীভাবে পড়তে হবে বা কোন স্যারের ক্লাসে কী খেয়াল রাখতে হবে, এসব বিষয়ে তাদের পরামর্শ জাদুর মতো কাজ করে।

varsity_1

৫. পরীক্ষার আগের রাতের ওপর ভরসা করা

কলেজ জীবনে অনেকেই হয়তো শুধু পরীক্ষার আগের রাতে পড়ে ভালো ফল করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কৌশল সব সময় কাজ নাও করতে পারে। এখানকার সিলেবাস অনেক বড় এবং পড়ার ধরনও আলাদা। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

৬. ক্লাব বা সহশিক্ষা কার্যক্রমকে অবহেলা করা

অনেকে ভাবেন, শুধু ভালো রেজাল্ট করলেই সব হয়ে যাবে। তাই ক্লাব, সংগঠন বা অন্য কোনো কার্যক্রমে তারা যোগ দেন না। অথচ ক্যারিয়ার গড়া, নতুন দক্ষতা শেখা এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে এসব কার্যক্রম খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা এখান থেকেই অর্জন করা সম্ভব।

৭. অযথা অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা

নতুন জায়গায় এসে চারপাশের অনেক মেধাবী মুখ দেখে ঘাবড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কে কত সুন্দর করে কথা বলছে, কার কত বন্ধু, কে কতটা জনপ্রিয়, এসব নিয়ে অনেকেই নিজেকে ছোট ভাবতে শুরু করেন। এই অহেতুক তুলনা নিজের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং ব্যক্তিগত বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।

varsity_3

৮. সব সুযোগ হাতছাড়া করা

ক্যাম্পাসে সারা বছর জুড়েই নানা রকম সেমিনার, কর্মশালা, প্রতিযোগিতা কিংবা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম চলতে থাকে। প্রথম দিকে অনেকেই এসব পাত্তা দেন না। কিন্তু এসব জায়গায় অংশগ্রহণ না করাটা ভবিষ্যতে বড় আফসোসের কারণ হতে পারে। কারণ এসব প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিজের লুকানো প্রতিভা আবিষ্কার করা যায়।

৯. মানসিক চাপকে উপেক্ষা করা

নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া খুব সহজ কোনো কাজ নয়। পরিবার ছেড়ে থাকা, নতুন মানুষের সঙ্গে মেশা বা পড়াশোনার চাপে অনেকেই একাকীত্বে ভোগেন। কিন্তু সংকোচ বোধ করার কারণে এসব নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেন না। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা প্রথম সেমিস্টারের একটা নীরব কিন্তু বড় ভুল।

১০. বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধুই ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা

ভালো সিজিপিএ অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল সিজিপিএর অঙ্কে মাপা যায় না। এটি জীবনের এমন একটি সময় যা আর কখনো ফিরে আসবে না। সুন্দর সম্পর্ক গড়া, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন, দক্ষতা বাড়ানো এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো চমৎকার স্মৃতিগুলোও এই জীবনের অনেক বড় একটা অংশ।

প্রথম বর্ষের এই ভুলগুলো আসলে আমাদের শেখারই একটা অংশ। ক্যাম্পাস জীবনের মেয়াদ শেষে যখন পেছনে ফিরে তাকানো হয়, তখন এই বোকামিগুলোই হয়তো সবচেয়ে বেশি হাসির খোরাক জোগায়। তবে অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে যদি একটু শিক্ষা নেওয়া যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা আরও সুন্দর, গোছানো ও অর্থবহ হতে পারে।

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর