সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মাড়ি থেকে রক্তপাত, অবহেলায় হতে পারে অকালমৃত্যুর কারণ!

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

মাড়ি থেকে রক্তপাত, অবহেলায় হতে পারে অকালমৃত্যুর কারণ!
মাড়ি থেকে রক্তপাত, অবহেলায় হতে পারে অকালমৃত্যুর কারণ! 

দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া কিংবা মুখগহ্বরের ভেতর হওয়া ছোটখাটো আলসারকে বেশিরভাগ মানুষই পাত্তা দেন না। সাধারণ সমস্যা ভেবে উড়িয়ে দেন। বিশেষত যারা নিয়মিত পান, গুল, সিগারেট বা অন্য কোনো তামাকজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করেন তারা এসব লক্ষণকে একদমই পাত্তা দিতে চান না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই সাধারণ অবহেলাই হতে পারে অকালমৃত্যুর কারণ। 

ওরাল ক্যানসার বা মুখের অভ্যন্তরের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে এগুলো। সঠিক সময়ে এই রোগ ধরা পড়লে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তাই তামাক ব্যবহার করেন এমন ব্যক্তিদের মুখের ভেতরের ছোটখাটো পরিবর্তন নিয়েও অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। 


বিজ্ঞাপন


oral

ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ কী কী?

মুখের ভেতরে কোনো ঘা বা আলসার হলে তা যদি টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যদি না সারে, সেক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

মুখের ভেতর, জিভ বা মাড়িতে সাদা অথবা লাল রঙের ছোপ বা প্যাচ থাকলেও সাবধান হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


বিজ্ঞাপন


bleeding-gums-1

খাবার চিবিয়ে খেতে, গিলতে বা কথা বলতে সমস্যা হলে অবহেলা করবেন না।

মুখের ভেতরে কোথাও অস্বাভাবিক ফোলা ভাব, পিণ্ড বা শক্ত অংশ তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

teeth

কোনো কারণ ছাড়াই দাঁত আলগা হয়ে যাওয়া বা নড়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। এমনটা হলে সতর্ক হোন।

মুখের ভেতরে বা ঠোঁটে অবশ ভাব এবং অনবরত মুখে দুর্গন্ধ হলেও সাবধান হওয়া প্রয়োজন।

Bleeding-gums-from-brushing-teeth

মুখের দুর্গন্ধ ও রক্তপড়াকে অবহেলা নয় 

যারা সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা বা জর্দা-খৈনির মতো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন, তাদের মুখে দুর্গন্ধ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ভালো করে ব্রাশ করা বা মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পরেও যদি অনবরত মুখে দুর্গন্ধ হতেই থাকে, তবে তা মাড়ির রোগ, ইনফেকশন কিংবা ওরাল ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। দুর্গন্ধের সঙ্গে মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তরুণদের ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে কেন? 

অনেকেই ভাবেন, মুখের ক্যানসার সাধারণত প্রবীণদের মধ্যে দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমানে এই হিসাব বদলে গেছে। এখন ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে ওরাল ক্যানসারের হার উদ্বেগজনক ভাবে ঊর্ধ্বমুখী। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমানোর দোহাই দিয়ে চেন স্মোকিং, পার্টি কালচার এবং ইদানীং যুক্ত হওয়া 'ভেপিং' (Vaping) বা ই-সিগারেটের প্রবণতা। 

অতিরিক্ত ধূমপান, ভেপিং, মদ্যপানের ফলে মুখের ভেতর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যা তরুণদের দ্রুত এই মারণ রোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

teeth_1

সতর্কতা কেন জরুরি? 

ওরাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে আশার কথা হলো এর আর্লি ডিটেকশন বা প্রাথমিক স্তরে রোগ নির্ণয়। যদি প্রথম পর্যায়েই রোগটি ধরা পড়ে, তাহলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। 

তাই লক্ষণ লুকিয়ে না রেখে বা নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে, তামাকের অভ্যাস ত্যাগ করাই শ্রেয়। মুখের ভিতরে সামান্য কোনো পরিবর্তন দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর